kalerkantho

রাজৈরে চলছে খাল দখলের মহোৎসব

খালে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর কিংবা চলাচলের রাস্তা। ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় দখলবাজি চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসন অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজৈরে চলছে খাল দখলের মহোৎসব

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাউয়ালীর কাঁচা এলাকায় খালে বাঁধ দিয়ে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থেমে নেই খাল ও জলাশয় দখল। কোথাও প্রভাবশালীরা; আবার কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় সাধারণ মানুষ খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। এমনই খাল দখলের কবলে পড়েছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বৌলগ্রাম, টেকেরহাটের শিমুলতলা, স্বরমঙ্গলের জিয়া খাল, খালিয়া সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত খালসহ উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ২০টি খাল।

উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বাউয়ালীর কাঁচা নামক স্থান থেকে শুরু করে ভাণ্ডারি বাজার পর্যন্ত একটি সরকারি খাল প্রবাহিত। খালটি মাটি দিয়ে ভরাট করে বৌলগ্রামের সঞ্জয় কীর্তনিয়া প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া বাউয়ালীর কাঁচা এলাকায় খালে বাঁধ দিয়ে নিজের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নিরোদ দত্ত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাউয়ালীর কাঁচা থেকে শুরু করে ভাণ্ডারী বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০টি স্থানে সরকারি খালটিতে বাঁধ দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকেই এ খাল দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা করছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় এ খাল দিয়ে পাল তোলা নৌকা চলত। মানুষ মালপত্র নিয়ে যাতায়াত করত। এখন সবই বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শিগগিরই খাল পুনরুদ্ধার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক।

এ ব্যাপারে উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাগর হোসেন বলেন, খালিয়া ইউনিয়নের তহশিলদার উেকাচের বিনিময়ে কিছু মানুষকে ঘর ও রাস্তা নির্মাণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এভাবে তিনি নিজের পকেট ভরছেন বটে; কিন্তু পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে দিচ্ছেন।

খালিয়া ইউনিয়নের তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া যারা খাল দখল করেছে, তাদের অনেকেই সরকারি জায়গা ছেড়ে দেবে বলে নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে রাজৈর পৌর এলাকায় টেকেরহাট বন্দরের জিয়া খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী ময়লা ফেলে খালটি প্রায় ভরাট করে ফেলেছে। এ ছাড়া দখলদাররা খাল দখল করে বাড়িঘর ও চলাচলের রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

শিমুলতলা থেকে পশ্চিম স্বরমঙ্গল যাওয়ার রাস্তার পাশের খালটি দখল করে পানির প্রবাহ রোধ করা হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে এখন মৃতপ্রায়। সেনদিয়া ঘাট থেকে মহিষমারী পর্যন্ত খালটিও দুই পাশের বাসিন্দারা দখল করে নিচ্ছে। কিছুদিন আগে খালটি খনন করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে রাজৈর পৌর মেয়র শামীম নেওয়াজ বলেন, পৌরসভার ভেতরের সব খাল অতিসত্বর দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে। তা ছাড়া জিয়া খালের ময়লা দু-একদিনের মধ্যে অপসারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, কোনোভাবেই খাল দখল করে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। শিগগিরই দখলদারদের উচ্ছেদের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা