kalerkantho

রংপুর অঞ্চল

ঈদ আনন্দ নেই কৃষকের

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোরো ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও দাম পায়নি কৃষক। উত্পাদন খরচও উঠছে না। অনেকেই ঋণ পরিশোধ করতে গরু-ছাগল বিক্রি করছে। এরই মধ্যে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। কিন্তু রংপুর অঞ্চলের কৃষক পরিবারে নেই উৎসবের আমেজ। ধানের দামের প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারেও। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও কোরবানির পশুসহ জমেনি কেনাকাটা।

কৃষকরা জানিয়েছে, অর্থাভাবে বেশির ভাগ পরিবার এখনো ভাবতেই পারেনি কোরবানির পশু কেনার কথা। কারণ কেউ কেউ বোরো ধানের কাটা-মাড়াইয়ের খরচ জোগাতে করা ঋণ শোধ করতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। টাকা না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষক পরিবারের বেশির ভাগই এবার বঞ্চিত হবে ঈদ আনন্দ থেকে। ধান চাষিরা জানায়, সরকার প্রতিবছর ধান কিনে থাকে। কিন্তু সে সুযোগ প্রকৃত চাষিরা পায় না। এখন চাষিরা ধান ঘরে তুললেও ধারদেনা পরিশোধে তাদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরেজমিন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে বোরো আবাদে এ বছর খরচ হয়েছে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫৫০ টাকা। এর মধ্যে বীজসহ বীজতলা তৈরিতে ৫০০ টাকা, জমি তৈরিতে এক হাজার টাকা, চারা রোপণে এক হাজার টাকা, রাসায়নিক সার এক হাজার ৩৫০ টাকা, নিড়ানি খরচ এক হাজার ৫০০ টাকা, সেচ প্রদান দুই হাজার টাকা, কীটনাশক ২০০ টাকা, গোবর সার ৫০০ টাকা, কর্তন ৮০০ টাকা, মাড়াই ও পরিবহন খরচ এক হাজার ২০০ টাকা এবং জমির ভাড়া বাবদ দুই হাজার টাকা। চাষিরা জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে গড় ফলন ১৮ মণ ধরা হলেও ৫০০ টাকা মণ ধরে যার মূল্য দাঁড়ায় ৯ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘা জমির ধান উত্পাদনে তিন হাজার ৫০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। যেখানে এক মণ ধান উত্পাদন করতে খরচ হয়েছে ৭০০ টাকা, সেখানে সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। অথচ অনেক আশা নিয়ে চড়া সুদে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছে তারা।

চলতি বছর উত্পাদন ব্যয় আরো বেড়েছে। নানামাত্রিক উত্পাদন ব্যয় বাড়ার নেপথ্য কারণ হিসেবে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কথা জানায় চাষিরা। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে নদী-নালায় পানি না থাকায় সেচে বেশি খরচ হওয়ায় এবার এই খাতে আনুপাতিক হারে উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষিরা বলছে, সরকারি ধান ক্রয় লক্ষ্যমাত্রার পুরো বরাদ্দই পান অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মিলাররা। তাঁরা নিজেরা কিংবা ফড়িয়াদের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন। বাড়তি উত্পাদন খরচের পুরোটাই কৃষক বহন করলেও এর সুফল ভোগ করে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীরা।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর গ্রামের বোরো চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ধান চাষ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে, বিক্রি করে সেটাই উঠছে না। এক মণ ধান কমপক্ষে ৯০০ টাকা হলে কৃষকরা লাভবান হতো।’ মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর এলাকার কৃষক নওশাদ আলী জানান, বোরোর উত্পাদন খরচের ঊর্ধ্বগতির ধারা ক্রমান্বয়ে অব্যাহত থাকায় খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি সারা দেশের এক-চতুর্থাংশ বোরো ধানের জোগানদাতা রংপুর বিভাগের হাজার হাজার চাষি ক্ষতির শিকার হচ্ছে ধারাবাহিকভাবেই।

মন্তব্য