kalerkantho

হত্যার প্রতিশোধ নিতে আসামির হাত-পা ভেঙে দিল বাদী

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বর্ষণ গ্রামে হত্যার প্রতিশোধ নিতে মামলার আসামিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে বাদী ও তার লোকজন। ভোররাতে তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনোয়ার হোসেন শাহীন (৪০) নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ চেচুয়াপাড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তিনি একই গ্রামের হায়দার আলী হত্যা মামলার আসামি। গত বুধবার রাতে বর্ষণ গ্রামে আব্দুল আলীমের বাড়িতে আটকে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা এবং এক হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশী কয়েকজন শাহীনের বাড়িতে গিয়ে পাওয়ার টিলার মেরামত করার কথা বলে ডেকে বের করে। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আব্দুল আলীমের বাড়িতে। সেখানে আটকে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ও এক হাত ভেঙে দেয় তারা। শাহীনের পরিবার থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় আলীমের চাচা আব্দুল গফুর পুলিশকে জানান, তাঁদের বাড়িতে ডাকাত হানা দিয়েছিল, গ্রামের লোকজন হৈচৈ শুরু করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পুলিশ তাঁর কথা বিশ্বাস না করে আলীমের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায়, ঘরে তালা দিয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। পরে ঘরের জানালা ভেঙে রাত ৩টার দিকে পুলিশ আলীমের ঘর থেকে শাহীনকে হাত-পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ গফুরের ভাতিজা নূর ইসলাম টিপু ও হাফিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

জানা গেছে, ২০১২ সালে জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আলীমের ভাই হায়দার আলী খুন হন। সেই খুনের মামলার বাদী আলীমের চাচা আব্দুল গফুর। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন শাহীন একজন। তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। সম্প্রতি শাহীন জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির বলেন, ‘রাতে শাহীনকে হাত-পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মন্তব্য