kalerkantho

পাঁচ বছরেও সচল হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ বছরেও সচল হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়ক দিয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন রোধে স্থাপিত ওজন পরিমাপক যন্ত্রটি পাঁচ বছরেও সচল হয়নি। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের কয়লাবাড়ী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্মিত ওই ওজন পরিমাপক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তা বিকল হয়ে পড়ে। এরপর তা আর মেরামত করা হয়নি। ফলে পণ্য পরিবহনে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের স্থায়িত্ব হ্রাস পাচ্ছে। এরই মধ্যে এই মহাসড়কের বহলাবাড়ী মোড়, কানসাট, ধোবড়া ও সোনামসজিদ বন্দরসংলগ্ন এলাকায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা সদর থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। ভারত থেকে প্রতিদিন পাথর, কয়লা, পেঁয়াজ, চাল, গম, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্য পণ্য আমদানি হয়ে থাকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। বন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম ভেঙে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন ভারবাহী কয়েক শ ট্রাক চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী সড়ক-মহাসড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ট্রাকে সর্বোচ্চ সাড়ে ২২ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করতে পারবে। কিন্তু সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ওজন পরিমাপক যন্ত্র বিকল থাকায় সে নির্দেশ মানছেন না আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত মালপত্র বহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মহাসড়ক। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

অতিরিক্ত মালপত্র পরিবহনের কথা স্বীকার করে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পণ্য বহনকারী একাধিক ট্রাকচালক জানান, আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের চাপে অনেক সময় তাদের অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করতে হয়। এ নিয়ে কথা বললে তারা অন্য ট্রাক ভাড়া নিয়ে নেয়। তবে ট্রাকে ওভারলোড করে মাল নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারক মদিনা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিধিমোতাবেক সড়ক-মহাসড়কের নিয়ম মেনেই প্রতিটি ট্রাকে মালামাল তোলা হয়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ফয়েজ আহমেদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের কয়লাবাড়ী এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ওজন পরিমাপক যন্ত্রটি স্থাপনের এক মাসের মধ্যে ‘প্যাড’ সমস্যা দেখা দেয়। সেটি আর মেরামত করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এর পাশেই বিজিবির উদ্যোগে নতুন ভেহিকল স্ক্যানার যন্ত্র বসানো হয়েছে। এই ভেহিকল স্ক্যানারটি চালু হলে ওভারলোড দমনের পাশাপাশি ট্রাকে থাকা নিষিদ্ধ পণ্য শনাক্ত করা সহজ হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর ধরে বিকল থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওজন পরিমাপক যন্ত্রটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের কয়লাবাড়ী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অকেজো হয়ে থাকা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের পাশেই বিজিবির ব্যবস্থাপনায় ভেহিকল স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। এটি চালু হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

 

মন্তব্য