kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

বাঘায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ড্রেন ‘অকার্যকর’

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাঘায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ড্রেন ‘অকার্যকর’

রাজশাহীর বাঘা পৌর এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো কোনো কাজে আসছে না। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর বাঘায় সড়কের পাশে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই কিলোমিটার ড্রেন কোনো কাজে আসছে না। ড্রেনের চেয়ে রাস্তা নিচু হওয়ায় পানি নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে এবারের বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি ড্রেন দিয়ে নামতে পারছে না। আগের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারেও কোনো উদ্যোগ নেই। নতুন করে ব্যাপক অর্থ খরচ করা হলেও সঠিক তদারকি না থাকায় কোনো সুফল মিলছে না। এর আগে ড্রেন পরিষ্কারের পেছনে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা হয়। তার পরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তা ছাড়া দক্ষিণ অংশে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ মিটার পাইপ ড্রেন নির্মাণ করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস সরকার। তবে দুটি প্রকল্পই বাস্তবায়নে যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে।

বাঘা পৌর এলাকার সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীকে তীব্র দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন পৌর বাজার এলাকায় জলাবদ্ধ হয়ে দোকান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সড়কের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বাঁশ গেড়ে সতর্কচিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ফলে ড্রেন নির্মাণের পরও আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ‘বাঘা-নারায়ণপুর সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেন দিয়ে পানি না নামার সুযোগে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ও বাঘা পৌরসভার মেয়রকে বিষয়টি জানিয়েছি। তখনই পৌর কর্তৃপক্ষ বালু দিয়ে সেই গর্তগুলো ভরাট করে দেয়।’

বাঘা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণে ত্রুটি ধরা পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই মোতাবেক তারা কাজ না করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরও দুই কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে ৯০ মিটার এখনো ঠিকাদার কাজ না করে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করছে। ২০১৭ সালে পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করেন সাবেক পৌর মেয়র।

বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগের মেয়র যেসব উন্নয়নকাজ করে গেছেন, সবগুলোরই প্রায় একই দশা। চলতি বর্ষা মৌসুমের পর এই ড্রেন পুনর্নির্মাণ করা হবে।

 

মন্তব্য