kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত

দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধে ফের ফাটল

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধে ফের ফাটল

দিনাজপুর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মাহুদপাড়া তুতবাগানের সামনে শহর রক্ষা বাঁধে ছিদ্র হয়েছে (ইনসেটে)। এ কারণে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে এই স্থান ভেঙে শহর পানিতে তলিয়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার দুই বছরেও দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধের ফাটল ধরা স্থান স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। ফলে গত সোমবার রাতে শহরের মাহুতপাড়া তুতবাগানের সামনে বাঁধে আবারও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে পুনর্ভবা নদীর পানি ঢুকছে শহরে। এ জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছে এলাকাবাসী। এর আগে ২০১৭ সালে বাঁধের একই স্থানে ধরা ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে শহর তলিয়ে গিয়েছিল।

জানা যায়, ২০১৭ সালে শহরের মাহুতপাড়া তুতবাগানের সামনে বাঁধে ফাটল ধরে। একপর্যায় বাঁধের ৩৫ ফিট ধসে যায়। ফলে পুনর্ভবা নদীর পানি ঢুকে পড়ে শহরে। বন্যায় প্রাণ হারায় ২৯ জন। শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। সে সময় জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে তলব করেন জেলা প্রশাসক। বন্যাকবলিত এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা, উদ্ধার করেন পানিবন্দি লোকজনকে। বস্তায় বালু ও মাটি ভরে ধসে যাওয়া স্থানে ফেলে শহরকে রক্ষা করেন তাঁরা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জেলায় এসে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। একই সঙ্গে ধসে পড়া স্থানে যাতে আবারও ধস না নামে সে জন্য ঠিকমতো মেরামত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সে স্থান আর মেরামত করা হয়নি। সেনা সদস্যরা প্রাথমিকভাবে যেভাবে মেরামত করে গেছেন সেভাবেই রয়ে গেছে বাঁধের সেই স্থান। ফলে সোমবার রাতে একই স্থানে ফাটল দেখা দেয়। সেখান দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পুনর্ভবার পানি ঢুকছে শহরে।

দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে আবারও এ জেলা বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। জেলা পাউবোর কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আবারও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ফাটলের স্থান দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘিরে ফেলা হয়েছে স্থানটি। সেখানে মাটি ও বালু এনে রাখা হয়েছে। কিন্তু ফাটল ধরা স্থান মেরামতের জন্য পাউবোর কোনো কমকর্তাকে দেখা যায়নি। যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে বাঁধটি। এ সময় দিনাজপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল আলম রমজান জানান, সোমবার রাত ৯টা থেকে বাঁধের পাশে অবস্থান করছেন তিনি। এলাকার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন যাতে করে বাঁধ ধসে না যায়।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘জেলার নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাই বাঁধে ফাটলের ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পানি কমে গেলেই বাঁধের নিচ দিয়ে পানি চুইয়ে চুইয়ে শহরে প্রবেশ করা বন্ধ হবে। বন্যার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কেন বাঁধের ভেঙে যাওয়া স্থানটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

 

মন্তব্য