kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

লাল চাঁনের ছেলে পুলিশ

‘কথা দিয়েছি আর ভিক্ষা করব না’

নওগাঁ প্রতিনিধি   

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লাল চাঁনের ছেলে পুলিশ

নওগাঁয় মাটির ঘরের সামনে বাবার সঙ্গে দুই ছেলে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাস্তবে ধরা দেওয়ার মতো স্বপ্ন কি সত্যিই তিনি দেখেছিলেন! কিন্তু স্বপ্ন তো সত্যি হয়ে গেল। যে মানুষটিকে নিয়ে মানুষেরা কৌতুকে মেতে উঠত, তাঁর ছেলে আজ পুলিশ সদস্য। লাল চাঁন মোল্লার অব্যক্ত কথাগুলো এখন অনবরত দুই চোখ বেয়ে অশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসছে। আবেগ-অনুভূতির কাছে মুখের ভাষা যেন অবরুদ্ধ। নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের হতদরিদ্র লাল চাঁন মোল্লার সহায়-সম্পদ বলতে কিছুই নেই। মাত্র ৩৮ ইঞ্চি লম্বা (বামন) লাল চাঁন নওগাঁর নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) বাজার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতেন। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তাঁর দুই ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। লাল চাঁনের কলেজে পড়ুয়া বড় ছেলে মো. ফিরোজ হোসেন এবার কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। তাই তিনি আজ আপ্লুত। লাল চাঁনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কালের কণ্ঠের ‘অবসর’ পাতায়। তখন লাল চাঁন প্রতিবেদককে বলেন ‘ছেলের পুলিশে চাকরি হলে আর ভিক্ষা করব না।’

যেদিন ফিরোজের চাকরিটি নিশ্চিত হয়, সেদিন তাদের ফিরতে অনেকটা রাত হয়েছিল। অসহায় লাল চান ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নওগাঁ পুলিশ লাইনস মাঠের এক কোনে। তা দেখে নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বাবা-ছেলেকে ডেকে নেন। নওগাঁ সদর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে তাঁদের পুলিশের পিক-আপভ্যানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। শুধু লাল চান ও তাঁর ছেলেকে নয়; অনেক নারী কনস্টেবল প্রার্থীকেও অনুরূপভাবে রাতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে এলাকায়। এবার নওগাঁ জেলায় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৪২ জন নারীসহ মোট ১২০ জন যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছে।

লাল চাঁন বলেন, ‘আমি একজন সহায়-সম্বলহীন মানুষ। আমি বাসের যাত্রীদের কাছে হাত পেতে সংসার চালিয়েছি এবং ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীরাই এবার নিয়োগ পেয়েছে।’

মন্তব্য