kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

কুলাউড়া

ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনা দুর্ভোগে যাত্রীরা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে আন্ত নগর ও লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা। ক্রসিং বিড়ম্বনার ফলে ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে না পৌঁছার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কখনো আধাঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা, কখনো বা দেড়-দুই ঘণ্টা ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। এ কারণে অনেক যাত্রী ট্রেনযোগে চলাচল বাদ দিয়ে সড়কপথে যাতায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

ক্রসিং বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ হচ্ছে কুলাউড়ার প্রাচীনতম লংলা স্টেশন বন্ধ থাকা। অন্যদিকে বরমচাল স্টেশন চালু থাকলেও দুর্ঘটনার কারণে টানা ১৮ দিন ধরে ক্রসিং ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। 

জানা যায়, ২৩ জুন বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বড়ছড়া সেতুতে আন্ত নগর উপবন ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে স্টেশনটি চালু থাকলেও রেললাইনের ক্রসিং বডি ও সিগন্যালের যন্ত্রাংশ ভেঙে যাওয়ায় ক্রসিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। অন্যদিকে লংলা রেলওয়ে স্টেশনটি মাস্টারের অভাবে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এক লাইনে চালু রেখে বন্ধ হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এ স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়নি। স্টেশনটি চালুর দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন এ লাইন দিয়ে আন্ত নগর, লোকালসহ ১৮টি ট্রেন সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাতায়াত করে। আগে কুলাউড়া থেকে যেকোনো ট্রেন সিলেটের উদ্দেশে ছাড়লে বরমচাল স্টেশনে দাঁড়িয়ে অন্য ট্রেনকে ক্রসিং করিয়ে দিত। আবার কুলাউড়া স্টেশন থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো লংলা স্টেশনে দাঁড়িয়ে অন্য ট্রেনকে ক্রসিং দিতে পারত। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

একটি স্টেশন বন্ধ, অন্য স্টেশনটির কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকায় সিলেটগামী ট্রেনকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী মাইজগাঁও স্টেশনে, আর ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে শমশেরনগর স্টেশনে ক্রসিং দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় লোকাল ট্রেন সুরমা মেইল, জালালাবাদ এক্সপ্রেস ও কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের।

বুধবার বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেসের রাত ৯টা ১৫ মিনিটে কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছার কথা। কিন্তু ক্রসিং সমস্যা থাকার কারণে রাত ১১টায় কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছে। পরে রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। একই দিন চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছার কথা বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে। কিন্তু ক্রসিং সমস্যা থাকার কারণে সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে কুলাউড়া পৌঁছায় এটি।

সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর পারাবত এক্সপ্রেসের যাত্রী মছব্বির আলী জানান, নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর ট্রেনটি কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছায়। এতে আখাউড়া-সিলেট রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মুহিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বরমচাল স্টেশনে ক্রসিং ব্যবস্থা না থাকায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো মাইজগাঁও স্টেশনে ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো শমশেরনগর স্টেশনে ক্রসিং নিতে হয়। প্রায় সময় একসঙ্গে কুলাউড়া স্টেশনের উভয় দিকের স্টেশনগুলোতে একাধিক লোকাল ও আন্ত নগর ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় লাইন ক্লিয়ার দেওয়া নিয়ে আমাদেরকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে বরমচালে ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলের ক্ষতিগ্রস্থ লাইন পুরোপুরি মেরামতের কাজ সম্পন্ন হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্রসিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’

মন্তব্য