kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

লোহাগড়ায় জিআর চাল বিতরণ

পরিবারপ্রতি ঘুষ

ইকবাল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল)   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিবারপ্রতি ঘুষ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ৩০ কেজি করে জিআরের চাল দিতে ১৮৫টি পরিবারের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া অন্তত ১৯টি পরিবার চাল পায়নি। গত ৩ জুলাই কোটাকোল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে চাল দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেলকাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পেই আগে সরকারি বরাদ্দের চাল দেওয়া হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাল দেওয়া হচ্ছে ১০ কিলোমিটার দূরে ঘাঘা গ্রামে ইউপি ভবনে। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ওই ভবনে গিয়ে চাল আনতে সদস্যদের খরচ হয় অন্তত ১০০ টাকা। ৩ জুলাই চাল দেওয়ার সময়  উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন, সচিব মো. আরব আলী, মহিলা সদস্য মোসা. শাহানারা বেগম, ইউপি সদস্য মো. জিন্নাহ্ বিশ্বাস ও ইউপি সদস্য মো. শহিদুল মোল্যা। খরচ বাবদ ১০০ টাকা না দিলে চাল দেওয়া হবে না বলে জানান ইউপি সচিব।

ভুক্তভোগীরা ১০০ টাকা করে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সচিব তাদের বলেন, ‘খরচ বাবদ এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়েছি।’ উপস্থিত না থাকায় অন্তত ১৯ পরিবারকে চাল দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের  সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মোল্যা একা ১০টি ঘর দখল করেছেন। ওই প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে মুলিবাঁশের চাটাইয়ের সিলিং বা পাটাতন ছিল। মূল্যবান কাঠের আড়া-বাতা ছিল। তার কিছুই নেই। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের ঘরে অসহায়ভাবে সদস্যরা বসবাস করছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা সৈয়দ মোল্যা, জসিম শেখ, রজব আলী, পদ্ম বিবি ও খুশি বেগম জানান, টাকা না দিলে চাল দেবে না। তাঁরা বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছেন।

কোটাকোল ইউপির (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সদস্য শাহানারা বেগম বলেন, ‘পরিবারপ্রতি ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি। প্রকল্পের সভাপতি সাখাওয়াত মোল্যা আমাকে জানান, ইউএনও খরচ বাবদ নিতে বলেছেন। আমি বললাম, তা গরিব মানুষের কাছ থেকে ২০ টাকা নিলে তো হয়। খরচ তো অনেক কম।’

ইউপি সচিব মো. আরব আলী বলেন, ‘আমি টাকা নিইনি। প্রকল্পের সভাপতি চাল আনাসহ দৌড়াদৌড়ি খরচ বাবদ ১০০ বা ৫০ টাকা করে নিয়েছেন।’

ইউপি চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন বলেন, ‘২১৭ বস্তা চাল এসেছিল। কত পরিবার চাল নিয়েছে সঠিক বলতে পারব না। তবে পরিবারপ্রতি ১০০ টাকা প্রকল্পের সভাপতি নিয়েছেন, এটা সত্য।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন মোল্যা বলেন, ‘চাল গোডাউন থেকে আনতে  শ্রমিকদের খরচ ও গাড়ির খরচ দিতে হয়েছে। ইউএনওকে বলেই আমি খরচের টাকা নিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রকল্পে অন্তত ১৬৫ পরিবার বসবাস করার কথা। অথচ এখন আমি, আমার বউ, ছেলে, মেয়ে ও মা দিয়ে দুটি প্লটে ১০টি ঘর নিয়ে বসবাস করছি। দলিল পেয়েছে এমন সাতটি পরিবারও বসবাস করছে। মোট ১৭ পরিবার এখানে থেকে বসবাস করছে। অন্যরা আশ্রয়ণে থাকে না। কিন্তু চাল বা অনুদান এলে সবাই হাজির হয়। গত ৩ জুলাই তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত অন্তত ১৬৫ থেকে ১৮৫ পরিবার চাল নিয়েছে। অনুপস্থিত থাকা ১৯টি পরিবারের চাল চকিদার, পঙ্গু, গরু চুরি হওয়াসহ অসহায় লোকদের দিয়েছি। আমি প্রকল্পের নির্বাচিত সভাপতি না। অফিসাররা আমাকে সভাপতি বানিয়ে রেখেছে।’

ইউএনও মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, ‘ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনেকেই এখন বসবাস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে আগের তালিকা বাতিল করে প্রকৃত দরিদ্রদের ওই ঘর বরাদ্দ দেব।’ ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের সভাপতি খরচ বাবদ টাকা নেওয়ার কথা আমাকে বলেছিলেন; কিন্তু আমি নিষেধ করেছিলাম। তার পরও অভিযোগ পেয়েছি তিনি টাকা নিয়েছেন। ওই টাকা ফেরত দিতে বলেছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা