kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

পলিথিন থেকে ডিজেল ও পেট্রল উৎপাদন

হাবিবুর রহমান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পলিথিন থেকে ডিজেল ও পেট্রল উৎপাদন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের শ্যালো মিস্ত্রি ছামাদুল ইসলাম পলিথিন থেকে ডিজেল ও পেট্রল উত্পাদন করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁ ও মেহেরপুরের গাংনির পর এবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে পেট্রল ও ডিজেল। দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে শ্যালো মিস্ত্রি ছামাদুল ইসলাম গত রবিবার এসব উৎপাদন করতে শুরু করেছেন। উৎপাদিত পেট্রল দিয়ে মোটরসাইকেল এবং ডিজেল দিয়ে পাওয়ার টিলার চালানো হচ্ছে।

শ্যালো ইঞ্জিন মেকার ছামাদুল ইসলাম জানান, তিনি ফেসবুকে পলিথিন গলিয়ে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া দেখেছেন। এর পর পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে টিনের একটি ড্রাম, দুটি প্লাস্টিকের কনটেইনার ও কিছু স্টিলের পাইপ দিয়ে রিফাইন মেশিন তৈরি করেছেন। প্রথম দিন ৬০ টাকার পাঁচ কেজি পরিত্যক্ত পলিথিন ও ১৫০ টাকার খড়ি দিয়ে কাজ শুরু করেন। দেড় লিটার পেট্রল ও আড়াই লিটার ডিজেল উৎপাদন করা হয়। পরে এই পেট্রল মোটরসাইকেলে ভরে পরীক্ষায় সফলতা পান। একইভাবে গতকাল বুধবার পাওয়ার ট্রিলারে ডিজেল ভরে পরীক্ষা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তেল উৎপাদন করতে ব্যবহার করছেন টিনের একটি ড্রাম, দুটি প্লাস্টিকের কনটেইনার, একটি মাটির তৈরি বড় পাত্র ও কিছু স্টিলের পাইপ দিয়ে তৈরি রিফাইনার মেশিন। এই প্রযুক্তিতে ড্রামের ভেতর পলিথিন রেখে তা আগুনের তাপে গলিয়ে বাষ্পের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রল ও গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। গ্যাস আটকাতে না পারলেও তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এক লিটার পেট্রল উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৭০ টাকা ও ডিজেল প্রতি লিটার খরচ হচ্ছে ৪২ টাকা। এই উদ্ভাবনে একদিকে যেমন যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরিত্যক্ত পলিথিন রিসাইকেল হয়ে সম্পদে পরিণত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে? অপেক্ষাকৃত কম দামে পেট্রল ও ডিজেল পেয়ে ব্যবহার করছে এলাকাবাসী।

ছামাদুল বলেন, ‘এই পেট্রল ও ডিজেলের সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন হলেও এটা এখনো আটকানো সম্ভব হয়নি। এই গ্যাস পাইপের মাধ্যমে খড়ির সঙ্গে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী দিনে গ্যাস আটকানোর বিষয়টা ভাবা হচ্ছে।’

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল জানান, যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পলিথিন পোড়ালে এর ধোঁয়া ও কালি ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণ করে এবং এতে স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ড্রামে আটকে আগুনের তাপ দিয়ে গলানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও কালি বাইরে ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই, ফলে এতে কোনো ক্ষতিকর দিক নেই।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা