kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্রকাশ্য নিলামে গোপন আঁতাত

কুড়িগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তার অনিয়ম

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমান্তে গরু জব্দের পর তা প্রকাশ্য নিলামে তোলা হয়। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তির কাছে তা বেচেন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কাস্টমস কর্মকর্তা সাহালম মিয়ার এই অনিয়মের ফলে তাঁর পকেট ভরলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গরু ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানরা অবৈধ পথে নামানোর সময় সাতটি ভারতীয় গরু আটক করে। আটকের পর বিজিবি জোয়ানদের দেওয়া প্রতিবেদনে এর দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। পরদিন কাস্টমস কর্মকর্তা এগুলো নিলামে বেচেন দুই লাখ ৬০ হাজার টাকায়। গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ মোল্লা এগুলো কেনেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিলামে ক্রয়কারীর সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেন কাস্টমস কর্মকর্তা।

এভাবে গত ৬ জুলাই উপজেলার দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানদের হাতে আটক ১৮টি গরুর দাম ৯ লাখ টাকা হলেও গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বেচা হয় সাড়ে চার লাখ টাকায়। গত ২৯ জুন ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানদের হাতে আটক ১৭টি বাছুরের দাম চার লাখ ৩০ হাজার টাকার স্থলে নিলামে বেচা হয় দুই লাখ টাকায়। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা কাস্টমস কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেন। গত ২৮ জুন উপজেলার ভাওয়ালকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে আটক চার লাখ টাকার ১৬টি বাছুর নিলামে বেচা হয় পৌনে দুই লাখ টাকায়। অন্যদিকে ২৬ জুন বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে আটক আড়াই লাখ টাকার তিনটি গরু নিলামে বেচা হয় মাত্র ৯৪ হাজার টাকায়। একই দিন দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে আটক দেড় লাখ টাকার পাঁচটি বাছুর নিলামে বেচা হয় মাত্র ৭৫ হাজার টাকায়।

ওই সব নিলামে অংশ নেওয়া একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, নিলামের আগে কাস্টমস কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। যোগাযোগের পর নামেমাত্র প্রকাশ্যে নিলাম দেখানো হয়। কাস্টমস কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন আঁতাত না করলে কোনোক্রমে কম দামে গরু কেনা যায় না। এভাবে লাখ লাখ টাকা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে পকেটে ভরছেন ওই কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কিছু অসাধু নেতাকর্মী জড়িত।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম মাকফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, ‘নিলামের সময় আমার উপস্থিত থাকা হয় না। তাই আমি এ বিষয়ে ভালো কিছু জানি না।’

অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা সাহালাম মিয়া বলেন, ‘প্রতিটি নিলাম কার্যক্রম আমরা প্রকাশ্যেই করে থাকি। সেখানে সর্বোচ্চ নিলামকারীর কাছেই বিক্রি করা হয়। কোনো গোপন আঁতাত বলতে কিছু নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা