kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

রাজশাহীর তানোর

ন্যায্য মূল্যে ধান কিনতে বাধা উপজেলা চেয়ারম্যানের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীর তানোরে সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে এলাকায় মাইকিং করে তালিকা করা হলেও কৃষকরা গতকাল পর্যন্ত সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়না বিশেষ সুবিধা নিতে পারছেন না বলে লোকজন দিয়ে কৌশলে কৃষকদের ধান সরবরাহে বাধা দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে এলাকায় মাইকিং করেছি। সে অনুযায়ী কামরাগাঁ গুদামের জন্য বরাদ্দ ১১৬ মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করতে ৩৬০ জন কৃষক তাঁদের কার্ড জমা দেন। ওই কার্ডধারীদের মাঝে বরাদ্দ সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। গত বুধবার কৃষকদের ধান সরবরাহ করতে বলা হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু লোক তাতে বাধা দেয়। এ কারণে কৃষকরা ধান সরবরাহ করতে পারছেন না।’

নাসরিন বানু আরো বলেন, ‘কিছু কৃষক নাকি বাদ পড়েছে এমন অভিযোগ তুলে কার্ডধারী কৃষকদের ধান সরবরাহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আদৌ এটা ঠিক নয়। কারণ ধান সরবরাহের আগে এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের জমায়েত করে তাঁদের কাছ থেকে আমি নিজে কার্ড সংগ্রহ করি। সে ক্ষেত্রে কোনো কৃষক বাদ পড়ার কথা নয়। যাঁরা ধান সরবরাহ করতে রাজি ছিলেন সবার কার্ডই জমা নিয়ে তাঁদের তালিকা করা হয়েছে। কাজেই এখন যাঁরা অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল হয়নি বলে এমনটি করছেন।’ বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে কামরাগাঁ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে কার্ড জমা দেওয়া স্লিপধারী কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ছিল। কয়েকজন কৃষক ধান সরবরাহ করতেও এসেছিলেন। কিন্তু চার-পাঁচজনের একটি দল এসে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এরপর ধান কেনা বন্ধ হয়ে যায়। তাদের কারণে গতকালও ধান কেনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাধাদানকারীরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়নার লোকজন। ময়না চান না তাঁর বাইরে কোনো ধান কেনা হোক। তাই তিনি সিন্ডিকেট করে কয়েক বছর ধরে ধান সরবরাহ করে আসছেন। এ বছরের শুরুতেও তিনি তাই করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে ধান কেনার বরাদ্দ আসার পর এবার আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর নির্ভর করেননি। এ কারণে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে এলাকায় মাইকিং করেন। কিন্তু তাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হন। তাঁর সিন্ডিকেটের লোকজন ধান সরবরাহ করতে পারছে না টের পেয়ে তিনি কৌশলে কৃষকরা বাদ পড়ছে বলে ধান কিনতে বাধা দিচ্ছেন।

উপজেলা খাদ্যগুদাম সূত্র মতে, চলতি বছরে তানোরে প্রথম দফায় মোট ৩৬৯ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরো ৬১৫ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী কামারগাঁ গুদামে ৩৬০ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজনের বাধার মুখে গতকাল পর্যন্ত সেই ধান কেনা যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গতকাল উপজেলা চেয়ারম্যান লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়নাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত সংসদ নির্বাচনের পর এলাকার একটি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় কামারগাঁ গ্রামের মানুষকে প্রায় একঘরে করে রেখেছিলেন ময়না। এমনকি তাঁর লোকজন বিএনপিপন্থী বেশ কিছু নেতাকর্মীর দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাটও চালিয়েছিল। এ নিয়ে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের ও পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তা ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা করা হয় বলেও তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা