kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

জলঢাকায় অভিযোগ

দলিল লেখক সমিতির নামে টাকা আদায়

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলফামারীর জলঢাকায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাবরেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন নেতার যোগসাজশে রশিদ ছাড়া দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। দলিল রেজিস্ট্রির নীতিমালা না মেনে ভুয়া কাগজে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার কোনো রশিদ বা ভাউচার দেওয়া হয় না। এমনকি চাইলেও কোনো প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। প্রতিবাদ করলে উল্টো দলিল লেখকদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়।

সূত্রে জানা যায়, দলিল মূল্য ২৪ হাজার টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং এর নিচে দলিলমূল্যে সরকারি এন ফিসহ অন্যান্য ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক প্রভাবশালী কর্মচারীর কাছে দিতে হয়। এতে কেউ প্রতিবাদ করলে জমি রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা নিজেকে লাঞ্ছনার হাত থেকে রক্ষা করাই মুশকিল হয়ে যায়। এ ছাড়া কাগজপত্রে সামান্য ভুল-ত্রুটি থাকলে দাতা-গ্রহীতাদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আহম্মেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান ও আমজাদ হোসেন সরকারের নেতৃত্বে চলছে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। তাঁদের মর্জি মতো রেজিস্ট্রারকে চলতে হয়।

টাকা আদায়কারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘দলিলপ্রতি অতিরিক্ত টাকার অংশ সাবরেজিস্ট্রারসহ সমিতির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।’

দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আহম্মেদ হোসেন ভেন্ডার অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, ‘পার্টিকে খুশি করে আমরা টাকা নিয়ে থাকি।’

সাবরেজিস্ট্রার মনিষা রায় বলেন, ‘দলিলপ্রতি সামান্য যে টাকা আদায় করা হয় তা দিয়ে অফিসের কাগজ-কলমসহ স্টেশনারি দ্রবাদি কেনা হয়।’

 

মন্তব্য