kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

রানীরবন্দর তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার

কর্মকর্তার চেয়ারে পিয়ন ১০ লাখ টাকা পকেটে

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্মকর্তার চেয়ারে পিয়ন ১০ লাখ টাকা পকেটে

ওয়ারেজ আলী

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারের পিয়ন ওয়ারেজ আলী কর্মকর্তার চেয়ারে বসে চাকরি ও ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা পকেটে ভরেছেন। চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার পরিদর্শক বরাবর এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিরিরবন্দর বেসিক সেন্টারের পিয়ন মো. ওয়ারেজ আলী রানীরবন্দর বালাপাড়ার মৃত আব্দুছ ছামাদের ছেলে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান তাঁর পরম আত্মীয় দাবি করে থাকেন। রানীরবন্দর তাঁত বোর্ড অফিসের ‘অফিস সহকারী’ পদে চাকরি দেওয়ার নামে বড়ভিটা গ্রামের অতিকান্ত রায়ের কন্যা প্রীতিবালা রায়ের কাছ থেকে তিন বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন।

অভিযোগে আরো জানা যায়, রানীরবন্দর তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মনজুরুল হাসান চার জেলার দায়িত্বে থাকায় মাসে দুই তিন দিন এই অফিসে উপস্থিত থাকেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসেন পিয়ন মো. ওয়ারেজ আলী। সুপারভাইজার ও লিয়াজোঁ কর্মকর্তা দাবি করে এলাকার লোকজনের কাছে আস্থা অর্জন করেছেন। এ সুবাদে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে অবৈধভাবে উপার্জন করে আসছেন। এ ছাড়া ওয়ারেজ বিলুপ্ত হওয়া এ শিল্পে তাঁতিদের ভুয়া ব্যাংক চেক দেখিয়ে ‘তোমাদের মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ দেওয়া হবে’ বলে তাঁতিদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

রানীরবন্দর তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. সাদেক আলী জানান, বিভিন্ন কারণে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তের পথে। এখানকার তাঁতিরা খেলাপি হওয়ার কারণে ২০০৪ সাল থেকে ঋণ বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু পিয়ন তাঁতিদের ঋণের কথা বলে এখনো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযোগকারী অতিকান্ত রায় বলেন, ‘আমি আগে কয়লার ব্যবসা করতাম। আমার জমিজমা সবই ছিল। কিন্তু আজ কিছুই নেই। বর্তমানে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। পিয়ন ওয়ারেজ আমাকে অফিসার পরিচয় দিয়ে মেয়েকে চাকরি দেওয়ার নাম করে সুকৌশলে সর্বস্বান্ত করেছে। তিন বছরে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রতারক ওয়ারেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পত্রের চিঠি পাঠিয়েছি।’

অভিযুক্ত অফিস পিয়ন ওয়ারেজ আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ১০ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অকপটে বলেন, ‘অতিকান্ত রায় আমার কাছে মাত্র ১০ হাজার পান। এগুলো সবই মিথ্যা।’

এ বিষয়ে রানীরবন্দর তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হাসান বলেন, ‘আমি চার জেলার দায়িত্বে আছি। প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না। চাকরি ও ঋণ দেয়ার নামে ওয়ারেজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম রাব্বানী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা