kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

বাল্যবিয়ে

সহপাঠীদের ফোনে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রীতিমতো শামিয়ানা টানিয়ে গানবাজনা চলছিল। তবে বিয়ের দিন শুক্রবার সকালে বাদ সাধল কনের সহপাঠীরা। তাদের বক্তব্য, অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীকে কোনোভাবেই বিয়ে দেওয়া যাবে না। অগত্যা বরপক্ষকে রাতে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কনের সহপঠীরাও সতর্ক দৃষ্টি রাখছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে তারা ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই কিশোরী। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশলী গ্রামের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় মুশলী বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তার সঙ্গে পাশের সিংরুইল ইউনিয়নের নদীর পাড় এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে সুজন মিয়ার (২৫) সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বরপক্ষ কনের বাড়িতে আসে। খবর পেয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন ইউএনও মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম। এরপর বিয়েবাড়িতে হাজির হয় একদল পুলশ।

পুলিশের উপপরিদর্শক খাইরুল জানান, পুলিশ আসার খবর পেয়ে নিমিষেই লাপাত্তা হয় বরপক্ষের লোকজন। পরে কনের বাবাকেও পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে অনলাইনে ওই ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করা হয়। তাতে ওই সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এ অপরাধে কনের মাসহ পরিবারের অন্যদের থানায় নিতে চাওয়া হয়। এ সময় বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করে রক্ষা পায় ভুক্তভোগীর মা।

মুশলী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ছাত্রীর বয়স ১৪ বছর তিন মাস। ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে তার পরিবার বিয়ে দিতে চেয়েছিল।

মন্তব্য