kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

নৌকার প্রার্থীকে তিন বিদ্রোহীর চ্যালেঞ্জ

শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকার প্রার্থীকে তিন বিদ্রোহীর চ্যালেঞ্জ

অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত হওয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৮ জুন। গত ২২ মে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর থেকে নীরবতা কাটিয়ে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে, ভোট চাইছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন একজন নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী। কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার প্রার্থীকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে।

গত ২৪ মার্চ অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা দেয়। পরে নতুন তারিখ ঠিক হওয়ার পর আবার প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণামুখী হন। তবে শুরুতে প্রচার-প্রচারণায় যে বর্ণাঢ্য রূপ ছিল, তা এখন আর নেই। তার পরও পেছনের তিক্ততা ভুলে প্রার্থীরা আবার নির্বাচনমুখী।  উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ।

তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীরা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী, ভোটাররা ততটা নয়। ভোট নিয়ে এক ধরনের নিস্পৃহ ভাব দেখা গেছে তাদের মধ্যে। কটিয়াদী বাজারের ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন বলেন, মানুষ কষ্ট করে ভোট দেয় ঠিকই, কিন্তু নির্বাচনের পরে কিন্তু বিপদে-আপদে জনপ্রতিনিধিদের আর কাছে পাওয়া যায় না। নির্বাচনের যদি কোনো সুফল থেকে থাকে, তা পায় জনপ্রতিনিধি ও তাঁদের লোকজনের।

লোহাজুরী গ্রামের বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই যে প্রার্থীরা বেকারদের কর্মসংস্থানের কথা বলছেন, উন্নয়নের কথা বলছেন, কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন, এগুলো আসলে কথার কথা। তাঁরা কখনোই এগুলো বাস্তবায়ন করবেন না। তবু পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন হয়, আমরা ভোট দিই। এটা এক ধরনের অভ্যাসের মতো। এর বেশি কিছু নয়।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রতীক হচ্ছে নৌকা। আমার বিশ্বাস, ভোটাররা উন্নয়নের মার্কায় দল-মত নির্বিশেষে ভোট দেবে। আর আমি নির্বাচিত হলে এলাকার স্বাভাবিক উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি খাত কাজে লাগিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলব। আর আমার কাছে বেশি গুরুত্ব পাবে নারীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নৌকাকে ভালোবাসে ও নৌকার প্রতি দায়বদ্ধ, তাদের ভোট নৌকাতেই পড়বে।

এই নারী চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপক্ষে লড়ছেন আওয়ামী লীগের তিনজন। তাঁরা সবাই এলাকায় প্রভাবশালী বলে পরিচিত। কাজেই চেয়ারম্যান পদে জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কটিয়াদীবাসী। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম); ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক; তা ছাড়া রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ উদ্দিন (মোটরসাইকেল)। জাকের পার্টির শহীদুজ্জামান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর বলেন, তিনি যখন চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কাজেই এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি নিশ্চিতভাবে জয়ী হবেন। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান বলেন, তিনি দুর্নীতিমূক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চান। আর সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে। আচরণবিধিসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া। আশা করি, এবার আর কোনো সমস্যা হবে না।’

মন্তব্য