kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

সুষ্ঠু নির্বাচনে ‘ভয়’ আ. লীগ প্রার্থীর

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুষ্ঠু নির্বাচনে ‘ভয়’ আ. লীগ প্রার্থীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ‘মডেল’ হিসেবে ধরে নিতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। আগামী মঙ্গলবার হতে যাওয়া বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সেই মডেল নির্বাচনটাই যেন চোখ রাঙাচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। একই সঙ্গে ইভিএম পদ্ধতিকেও ভয় পাচ্ছেন এই প্রার্থী।

গত ৩১ মার্চ হয়ে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের সুষ্ঠু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম হেরেছিলেন। বিজয়নগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট তানবীর ভূঁইয়ার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমানের জোর লড়াই হবেও বলে স্থানীয়রা ধারণা করছে।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারে কাজল মিয়া ও হাটখোলা বাজারে মনা মিয়ার চায়ের দোকানের আলাপচারিতায় উঠে এলো নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক চিত্র। ওই দুই দোকানে আলোচনার সারমর্মটা ছিল এ রকম, সদর উপজেলা পরিষদের মতো সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবি হবে। অনেকেই বলেন, দলীয় প্রার্থী জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ কম রেখেছেন। প্রকারান্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমান ব্যক্তিগত অর্থায়নে উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত থাকায় অনেকটা এগিয়ে। এ ছাড়া ইভিএম পদ্ধতির ভোটে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই বলে সরকারি দল তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্রে ভোটার আসতে না দেওয়ার মতো কিছু ঘটাতে পারে সরকারদলীয় লোকজন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া অবশ্য সদর নির্বাচন ও ইভিএম যন্ত্রের ভয় বিষয়টি মানতে নারাজ। গতকাল দুপুরে তিনি বলেন, ‘বিজয়নগরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে অবশ্যই আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করবেন।’

বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত অ্যাডভোকেট তানবীর ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমান, সৈয়দ মাঈনুদ্দিন আহমেদ, ফজলুল হক সরকার, প্রকৌশলী মো. মোসাহেদ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মৃণাল চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান, লিটন মুন্সী। সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ফয়জুন্নাহার টুনি ও সাবিত্রী রায়।  মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ জন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সর্বত্রই এখন নির্বাচনী আমেজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়া হয়ে বিজয়নগরের প্রথম এলাকার সিঙ্গারবিল বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে আছে পুরো এলাকা। এ পথ ধরে চান্দুরা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার ঝুলতে দেখা যায়।

কথা হয় সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সুজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। তাই দলের প্রার্থীকেই ভোট দেব। যদিও প্রার্থীর কিছু গ্যাপ ছিল।’ রিকশাচালক হিরণ মিয়া বলেন, ‘নাছিমাই পারতি হিসেবে বালা। মাইনসের খুব উপকার করছে। কোনো উন্নয়নকাজের লাইগ্যা গেলে সাহাইজ্জ করছে।’

সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আলী আজগর বলেন, ‘আমারা গ্রামের প্রার্থী হলেন জুম্মান (সৈয়দ মাইনুদ্দিন)। তাই আমি দলের প্রার্থীর পক্ষে থাকতে পারছি না।’

নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাকে পরাজিত করতে তানবীর ভূঁইয়ার লোকজন নানা ধরনের চক্রান্ত করছে। তারা চাইছে কেন্দ্রে যেন ভোটাররা না আসে। ইভিএম যন্ত্রও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘দলের প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, মনোনয়ন জমাদানের পর পরই নাসিমা লুৎফুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। আটক করা হয় তাঁর গানম্যানকে। এদিকে ছতুরপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে গুলিবর্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মন্তব্য