kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

দেড় কোটি টাকা গচ্চা

ঝিকরগাছায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেড় কোটি টাকা গচ্চা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প দায়সারাভাবে শেষ হতে চলেছে। ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এটি বাস্তবায়ন করছে। ঝিকরগাছায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে উলাসী সৃজনী সংঘ (ইউএসএস)।

যশোর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সূত্র মতে, ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে জীবন দক্ষতাভিত্তিক মৌলিক সাক্ষরতা প্রদান প্রকল্পের লক্ষ্য। এক কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিকরগাছা উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটি শুরু এবং আগামী ১৬ জুন তা শেষ হবে। এ জন্য এই উপজেলায় ৩০০টি শিক্ষনকেন্দ্র গড়ে তোলা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য রয়েছেন ১৫ জন সুপারভাইজার। কর্মসূচির নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য রয়েছেন একজন কর্মকর্তা। প্রতিদিনের পাঠদানের সময় দুই ঘণ্টা। শিক্ষার্থীদের অর্জন যাচাই ও সাক্ষরতা দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য রয়েছে দুটি বই। ‘আমাদের চেতনা’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড। প্রথমবার তিন মাস পর প্রথম খণ্ড বিষয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যবর্তী মূল্যায়ন এবং দ্বিতীয়বার কোর্স শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় খণ্ড বিষয়ে শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে।

ঈদের আগে ও পরে উপজেলার অন্তত দেড় ডজন শিক্ষণকেন্দ্র ঘুরে একটিও খোলা পাওয়া যায়নি। এ সময় বাড়িতে গিয়ে কথা হয়েছে শিক্ষকদের সঙ্গে। বাড়ি এবং রাস্তায় যাওয়ার সময় কথা হয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষণ কার্যক্রম খুব ভালো ছিল; কিন্তু দুই-তিন মাস পর থেকে এর কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে। ক্রমে তা স্থবির হয়ে পড়ে। এখন সব কিছু খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ। ঝিকরগাছা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের জাহিদুলের বাড়ি কেন্দ্রটি বন্ধ ছিল।

কেন্দ্রটির পুরুষ শাখার শিক্ষক সুজন কবির বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে প্রথমে ৩০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। এখন আছেন ২৭ জন। ২৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সবাই পাস করেছেন। তবে রমজান মাসে কেন্দ্র বন্ধ। এর আগে ধান কাটার সময় কয়েক দিন কেন্দ্র বন্ধ ছিল।’

এই কেন্দ্রের নারী শাখার শিক্ষক সুমিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ৩০ জনের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। তাঁরা আগে পড়তে পারতেন না। এখন পারেন। রমজানের শুরু থেকে কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ঈদের পর আর চার-পাঁচ দিন ক্লাস হবে।’

পদ্মপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শাখার শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, ‘প্রথম তিন মাস কেন্দ্র বেশ ভালো চলেছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো ছিল। এখন আর সেভাবে কেন্দ্রটি চলছে না। এ পর্যন্ত ৩০টি কলম ও ৩০টি খাতা পেয়েছি। চক দিয়েছে। তবে বোর্ড নেই। পাঁচ মাসে দুই হাজার ১৬০ টাকা বেতন এবং পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে এক হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পেয়েছি।’

গত ২২ মে নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বল্লা বাজারে একটি ব্রয়লার মুরগির মাংসের দোকানে দেখা গেছে দুই বস্তা বই পড়ে থাকতে। এ গ্রামে চারটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ। এ বিষয়ে ইউনিয়ন সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান জানান, বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঠিকমতো টাকা-পয়সা দেয় না, আবার খোঁজ-খবরও নেয় না। তাই দেখভালও তেমনভাবে করা হয় না।

জানতে চাইলে উপজেলা কর্মসূচি কর্মকর্তা অচিন্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘রমজানের অফিশিয়াল কোনো ছুটি নেই।’

এই শিক্ষা কমিটির সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম জিল্লুর রশীদ, সমবায় কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার দাস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাধন কুমার বিশ্বাস এ জাতীয় একটি প্রকল্প উপজেলাতে চলমান আছে তা তাঁরা জানেন বলে জানান।

উলাসী সৃজনী সংঘের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মণি বলেন, ‘কেন্দ্রগুলো ভালো চলছে।  দু-একটি কেন্দ্রে কিছু সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

ঝিকরগাছা উপজেলার সদ্যোবিদায়ি নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে বলেন। ব্যবস্থা নেওয়াসহ জেলা প্রশাসককে জানাব।’

যশোর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মুহম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প একটি ফলাফলভিত্তিক কর্মসূচি। শিক্ষার্থীরা যেভাবে পাস করবেন শিক্ষকরা সেইভাবে বেতন পাবেন। যেসব শিক্ষার্থী পাস করবেন না

তাঁদের পাস করানোর জন্য শিক্ষকরা এক মাস করে মোট তিন মাস সময় পাবেন। আগামী ১৬ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর ঢাকা থেকে আসা থার্ড পার্টি শিক্ষার্থীদের মূলায়ন করবে। কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’

 

মন্তব্য