kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে সংঘর্ষ

মিঠামইনে আরো একজনের মৃত্যু লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিঠামইনে আরো একজনের মৃত্যু লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাশিমপুর গ্রামে গত শনিবার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয় মো. আব্দুল মজিদের (৪৫)। এ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হলো।

আব্দুল মজিদ উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাশিমপুরের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল হাসিম। এর আগে স্থানীয় রুবেল মিয়া পক্ষ ও মো. জয়নাল পক্ষের মধ্যে ওই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দ্বীন ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির। মৃতরা রুবেল পক্ষের লোক।

সূত্র জানিয়েছে, হাশিমপুরে সংঘর্ষের পরে রুবেল পক্ষের লোকজন জয়নাল পক্ষের অন্তত ৩৫টি বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে। বাড়িঘরের ধান-চাল, কাপড়, আসবাবপত্র, টিভি-ফ্রিজ কিছুই নেই। তাদের শতাধিক গরু ধরে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষ। সেখানে জয়নাল পক্ষের কোনো লোক নেই, সবাই পালিয়ে গেছে। হাশিমপুরে অরাজক পরিস্থিতি চলছে।

এদিকে সংঘর্ষ, নিহত ও লুটপাটের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। মিঠামইন থানার ওসি মো. জাকির রব্বানি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। তবে আজই (গতকাল) মামলা হবে।

রুবেল মিয়া মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। আর মো. জয়নাল কাটখাল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। হাশিমপুরের এই বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

জয়নালের পক্ষের অভিযোগ, সংঘর্ষে প্রাণহানির পর জয়নালের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। আর এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের গরু-মহিষ-ছাগলসহ সব কিছু লুটে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের কাছ থেকেও তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানায়, মো. জয়নালের কিছু নারী আত্মীয়স্বজন শনিবার সকালে রুবেল মিয়ার বাড়ির কাছে তাদের স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তখন কেউ কেউ তাদের উত্ত্যক্ত করে। এ ঘটনায় জয়নালের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। পরে জয়নাল ও রুবল পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে দ্বীন ইসলামের মৃত্যু হয়। বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত আব্দুল মজিদ ও গিয়াস উদ্দিনকে (৫০) সেদিনই মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তা ছাড়া সংঘর্ষে কম-বেশি আহত হয় আরো অন্তত ২৫ জন।

মন্তব্য