kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

থমকে আছে ধান কেনা কার্যক্রম

আক্কেলপুরে তালিকায় জটিলতা

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কৃষকদের তালিকা নিয়ে বিতর্ক থাকায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম থমকে রয়েছে। এদিকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো কৃষকের ধান কেনা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে কম মূল্যে বাজারে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা।

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের তালিকা আমাদের অফিস থেকে একাধিকবার খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নানের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন ধান কেনা হচ্ছে না—তা আমি বলতে পারব না।’

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার কৃষক বোরো চাষ করেছেন। এর মধ্যে কার্ডধারী কৃষক আছে ৩৫ হাজার ৩১২ জন। কৃষি বিভাগ ১০ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সেখানে ১০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বোরো ধান কাটার শুরু থেকেই বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা সরকারিভাবে ধান কেনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কিন্তু কয়েক দফায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা যৌথভাবে যে তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন, তাতে রাজনীতিবিদ, ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যানদের আত্মীয়-স্বজনসহ বিত্তবান কৃষকদের নাম রয়েছে। ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ ও সরকারি দলের একাংশের নেতাকর্মীরা ওই তালিকায় ধান ক্রয়ে আপত্তি তুলে প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের দাবি করেন। এরপর কৃষি বিভাগ ফের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিলেও সিদ্ধান্তের বেড়াজালে ঝুলে রয়েছে ধান কেনার কার্যক্রম।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। সেই তালিকা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে দেওয়া হয়েছে। এখন মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হলেই ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হবে।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ বলেন, ‘প্রথমবার কৃষকদের তালিকায় গরমিল থাকায় আমি আপত্তি করেছিলাম। এখন নাকি প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরি হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরে ধান কেনা শুরু হবে। এখানে কোনো লুকোচুরির সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরাই সরকারের কাছে ধান দেবেন।’

উপজেলা সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ শারমিন বলেন, ‘গত ২৩ মে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল। ওই দিন একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন ধান কেনা হয়েছিল। তার পর থেকে আর ধান কেনা হয়নি।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কৃষকদের তালিকা নিয়ে জটিলতা থাকায় ধান ক্রয়ের কার্যক্রম উদ্বোধনের পরে তা স্থগিত রাখা হয়। এখন মিটিংয়ে সিদ্ধান্তের পরেই ধান কেনা শুরু হবে।’

 

মন্তব্য