kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

‘স্কুলে গেলে খাওন দিবো ক্যাডা’

গণেশ পাল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘স্কুলে গেলে খাওন দিবো ক্যাডা’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে বস্তা মাথায় ঝরে পড়া ছাত্র অসীম খান। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাসমত, রাব্বি, জসিম, রাকিব, অসীম, সাব্বির ও রনি। ওরা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের শিশুকুলি। এ ঘাটে তাদের মতো আরো ১০-১২ জন শিশুকুলি রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন লঞ্চযাত্রীর ব্যাগ-বোঝা বয়ে বেড়ায় ওরা। এভাবে কিছু টাকা উপার্জন করে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সব টাকা তাদের মা-বাবার হাতে তুলে দেয়।

তাদেরই একজন অসীম খান (১২)। সে ফেরিঘাটের পাশে অবস্থিত সাত্তার মেম্বারপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র আইয়ুব আলী খানের ছেলে। শিশু অসীম দৌলতদিয়া চাঁদ খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র ছিল। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেনি। এক বছর আগে মা সখিনা বেগমের পরামর্শে স্কুল ছাড়ে অসীম। তখন থেকে সংসারের অভাব মেটাতে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কুলি-মজুরের কাজ শুরু করে।

গতকাল দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনালে শিশুকুলি অসীম কাজ করছিল। প্রচণ্ড রোদে তার মাথার ঘাম টপ টপ করে ঝরছিল। এ সময় অসীম বলে, ‘আমার লেখাপড়া করোনের খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কী করুম কন? আব্বার কামাই-রোজগার কম। স্কুলে গেলে আমার খাওন দিবো ক্যাডা?’

আজ ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নানা কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। কিন্তু অসীমের মতো দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের শিশুকুলিদের দিকে কারো নজর নেই।

মন্তব্য