kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যানের খামখেয়ালি

ঈদের চাল পায়নি ১২ হাজার দুস্থ

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদে খাবারের অভাব মেটাতে সরকার দুস্থদের জন্য ভিজিএফের ১৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ঈদ শেষ হয়ে গেলেও লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সাতটিতেই দুস্থরা তা পাননি। অভিযোগ রয়েছে, শতকরা ২৫টি ভিজিএফ কার্ডের চাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেলকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম পরিপন্থী হলেও এ দাবি ছিল চেয়ারম্যানের খামখেয়ালিপনা। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে চাল নেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার রামগতি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য প্রায় ২০২ টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ওই সব ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৪৯৭ জন কার্ডধারী ১৫ কেজি করে এ চাল পাবে। চরবাদাম ছাড়া অন্য কোনো ইউপি চেয়ারম্যান গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চাল নেননি।

পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগেই চরবাদাম ইউনিয়নের বরাদ্দ প্রায় সব চাল বিতরণ করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নে প্রায় ১৩ শ কার্ডধারী রয়েছে।

এদিকে মেঘনার ভাঙনকবলিত উপকূলীয় এ উপজেলার মানুষগুলোর কষ্টে দিন কাটছে। এই অঞ্চলের মানুষগুলোর বেশির ভাগই কৃষক ও জেলে। মার্চ-এপ্রিলে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও গত এক মাসে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়েনি। এতে ধারদেনা করে কোনো রকম তাদের ঈদ কাটাতে হয়েছে। ঈদের আগে ভিজিএফের চালগুলো পেলে তারা খুশিতে দিন কাটাতে পারত। কিন্তু পাশের উপজেলার দুস্থরা ভিজিএফের চাল পেলেও রামগতিতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে এ জনপদের তিন শতাধিক কাঁচা ও টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের কাছে শতকরা ২৫টি করে নাম দাবি করেছেন। এটি সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম পরিপন্থী। বিগত দিনে কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান এমনটি দাবি করেননি। ঈদে দুস্থদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার চাল দিলেও চেয়ারম্যানের অযৌক্তিক লোভের কারণে তা বিতরণ সম্ভব হয়নি। এতে দুস্থরা ঈদে বঞ্চিত হয়েছে।

চরআলগী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের আগেই আমার ইউনিয়নে এক হাজার ৫৮১ জনের তালিকা করে উপজেলায় জমা দিয়েছি। জটিলতার কারণে যথাসময়ে চালগুলো বিতরণ করা যায়নি। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।’

রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, ‘ভিজিএফের চালগুলো ঈদের আগেই বিতরণের কথা ছিল। নানা কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাকি চালগুলো বিতরণ করা হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সত্য নয়। ঈদের আগে মৎস্য বিভাগের তালিকার জেলেদের চাল দিতে হয়েছে। এ কারণে দুস্থদের চাল বিতরণ করতে পারিনি। সঠিকভাবে দুস্থদের নামের তালিকা করতে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই চালগুলো দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’

 

মন্তব্য