kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

চাটমোহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মানহীন পণ্য

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবনার চাটমোহরের বিভিন্ন হাটে-বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য। শহর এলাকার ক্রেতারা এসব পণ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও গ্রামগঞ্জে মানহীন পণ্যের বেচাকেনা অবাধে চলছে। গ্রামের সাধারণ মানুষের অনেকেই এসব পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। আর অনেক দোকানি এই সুযোগে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইয়ের অনিয়মিত অভিযানের কারণে এখনো বাজারে এসব মানহীন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা গেছে, গত ১৮ মের মধ্যে মানহীন পণ্যগুলো বাজার থেকে হাইকোর্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ডিলারদের মাধ্যমে ধীর গতিতে এসব পণ্য তুলে নিচ্ছে। তা ছাড়া গ্রামগঞ্জের দোকানে দোকানে এসব মানহীন পণ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা, হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, মূলগ্রাম, ডিবিগ্রামসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সরিষার তেল, চিপস, নুডলসসহ নিষিদ্ধ মানহীন পণ্য। অনেক দোকানি জানেন না কোন কোন পণ্য বিক্রি করা যাবে আর কোনটা যাবে না। আবার অনেকে জেনেও বিক্রি করছে। মাঝেমধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শুধু পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলেও গ্রামগঞ্জে তারা যায় না। এতে গ্রামগঞ্জের মানুষের জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্বল বাজার মনিটরিংয়ের সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এখনো এসব পণ্য বিক্রি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মানহীন পণ্য বিক্রি বন্ধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে ভোক্তারা।

চাটমোহর পুরাতন বাজার এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী দাস অ্যান্ড সন্সের স্বত্ব্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রীবাস চন্দ্র দাস, প্রদীপ স্টোরের স্বত্ব্বাধিকারী প্রদীপ কুণ্ডুসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সচেতনতা বেড়েছে। অনেক কম্পানি তাদের পণ্য বাজার থেকে তোলা শেষ করতে পারেনি। অনেক কম্পানি আদেশ পাওয়ার পরের দিন সব পণ্য তুলে নিয়েছে। কম্পানির লোকজন এখন মালপত্র বিক্রি করার চেয়ে বাজার থেকে তুলে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে বলে জানায় তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ‘অভিযান চালাতে গেলে ব্যবসায়ী নেতারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তবুও সেবা করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। তবে অচিরেই আবারও অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য