kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ছাতকে ছয় ভাইয়েরই অস্ত্র পাঁচটির লাইসেন্স বাতিল

সুনামগঞ্জ ও ছাতক প্রতিনিধি   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাতকে ছয় ভাইয়েরই অস্ত্র পাঁচটির লাইসেন্স বাতিল

সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের এক আওয়ামী পরিবারের ছয় ভাইয়েরই বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে এসব বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগে সম্প্রতি একটি বাদে পাঁচটিরই লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্সগুলো বাতিল করেন।

পাঁচ ভাইয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের পর থেকেই খবরটি জেলাজুড়ে অন্যতম আলোচনার বিষয়। প্রশ্ন উঠেছে, এলাকায় একক আধিপত্য, আর্থিক-সামাজিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকার পরও একটি পরিবারের সবারই অস্ত্র প্রয়োজন হলো কেন? গত ১৪ মে ছাতক শহরে সুরমা নদীতে অবৈধ চাঁদাবাজির জের ধরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে প্রশাসন। এ অবস্থায় অনেকেরই ধারণা, এই পরিবারে বৈধ অস্ত্রের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে। যা বিভিন্ন সময় সংঘর্ষে ব্যবহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিল্পনগরী ছাতকের একক কর্তৃত্বে রয়েছেন ছাতক পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী। তাঁর ভাই জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীও ছাতকের রাজনীতি নিয়ন্ত্রক। অন্য ভাইয়েরাও আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। ছাতক শহরে কয়েক প্রজন্ম ধরে রাজনীতি, অর্থনীতি ও পেশিশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন তাঁরা। কালাম-শামীম চৌধুরী বলয়ের বাইরে আওয়ামী রাজনীতি করে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ কারো নেই। তাদের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এই বাহিনীকে লালন-পালন করেন তাঁরা। উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও এই পরিবারের আনুকূল্য নিয়ে রাজনীতি করেন বলে শোনা যায়। এই উপজেলায় প্রশাসনে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাও এই পরিবারকে নিয়ে সব সময় তটস্থ থাকেন। ২০১৭ সালে কালাম চৌধুরীর ভাগ্নে ও শামীম চৌধুরী গ্রুপের প্রধান কর্মী সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ত চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ১৪ মে ছাতকে চাঁদাবাজি নিয়ে যে বন্দুকযুদ্ধ হয়, এই ঘটনায়ও শামীম চৌধুরীর হয়ে নেতৃত্ব দেন ওই চেয়ারম্যান। পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ও হামলা মামলায় তিনিও আসামি।

এদিকে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ শাখা থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর গত ১৮ মে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ মে রাতে ছাতকের সুরমা নদীতে বালু-পাথর আহরণকারী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই ভাইয়ের অনুসারীরা নিজেদের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তারা গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশকে আহত করে। গুলিতে সাহাব উদ্দিন নামে একজন ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। ওই দিন বন্দুকযুদ্ধে ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামালসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ গুলিবিদ্ধসহ আহত হন। পুলিশ আক্রান্ত হওয়ায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাদের সন্দিগ্ধ আসামি করে প্রতিবেদন দেয়।

মেয়র কালাম চৌধুরীর ভাই লাইসেন্স বাতিল হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা শামীম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ছয় ভাইয়েরই লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আছে। আমাদের পাঁচ ভাইয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হলো আমরা জানি না।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হয়েছে।

 

মন্তব্য