kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কুষ্টিয়া

কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছে না

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম মণপ্রতি অন্তত এক শ টাকা কম। এবার ধান বিক্রি করে কৃষকের উত্পাদন খরচই উঠছে না। অন্যদিকে একশ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও জেলার বিভিন্ন চালকল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে পারছে না কৃষকরা। এ অবস্থায় জেলার কৃষকরা সরাসরি তাদের কাছ থেকে সরকারি গুদামে ধান কেনার দাবি জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা নতুন ধান বিক্রি শুরু করেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম খাজানগরে গত বছর এই সময় বোরো মণপ্রতি বিক্রি হয় ৭৫০ টাকা। গত সোমবার এই হাটে বোরোর দর উঠেছিল মণপ্রতি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা। ধানের এমন দামে কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছে।

সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের কৃষক আলতু মিয়া জানান, এক বিঘা জমিতে ধান উত্পাদন শেষে ঘরে তুলতে প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান ও বিচালি বিক্রি করে ঘরে আসছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস কেনা যাচ্ছে। তেল-মসলা আর কেনা যাচ্ছে না।

বটতৈল এলাকার কৃষক ইদবার হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাদ্যগুদামে ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান কেনা হলেও আমরা সেখানে যেতে পারছি না। একশ্রেণির ফড়িয়া ও মিল মালিক আমাদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে সেখানে দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করছে। কিন্তু কৃষকরা মূল্য পাচ্ছে না। অবিলম্বে সরকারকে আমাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার দাবি জানাচ্ছি।’

আইলচারাসহ বিভিন্ন হাটে আসা কৃষকরা বলেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। তখন আমদানি আরো বাড়বে, সঙ্গে দাম আরো পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিরপুর উপজেলার নিমতলা গ্রামের কৃষক আশরাফুল হক বলেন, ‘রোদে পুড়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান চাষ করি। সেই ধানে ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। কৃষকের দিকে কেউ খেয়াল রাখে না।’

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ধানের বাজার মন্দার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এ কে এম শাহনেয়াজ বলেন, ‘এখন বাজারে কাঁচা ধানই বেশি। যা আমাদের ক্রয় নীতিমালার মধ্যে নেই। তবে শুকনো ধান কোনো কৃষক গুদামে নিয়ে এলে আমরা অবশ্যই তা কিনব।’

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, এখন বাড়িতে কিছুদিন সংরক্ষণ করে দাম বাড়লে ধান বিক্রি করা উচিত।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ‘কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হাটগুলোতে তদারকি বাড়ানো হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মানসম্মত ধান কিনতে খাদ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি।’

 

মন্তব্য