kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

পাকুন্দিয়া

ওয়্যারিং পরিদর্শকের নামে ঘুষের অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়্যারিং পরিদর্শকের নামে ঘুষের অভিযোগ

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওয়্যারিং পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ কেবল উেকাচের বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেন। আর উেকাচ না পেলে বেঁকে বসেন। এভাবে দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলার লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের কোনো বিচার না পাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের একজন ওয়্যারিং পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ। এক বছর ধরে হোসেনপুর জোনাল অফিসের অধীনে পাকুন্দিয়া উপজেলায় ওয়্যারিং পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার শুরু থেকেই তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উেকাচ হিসেবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যাঁরা উেকাচ দেন তাঁদের তিনি বিদ্যুতের সংযোগ পাইয়ে দেন। যাঁরা উেকাচ দেন না তাঁদের সংযোগ পাইয়ে দেন না।

উপজেলার নারান্দী চরপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ওয়্যারিং পরিদর্শক শহীদুল্লাহ আমার কাছে ছয় হাজার টাকা উেকাচ দাবি করেন। আমি বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে তাঁর সঙ্গে দর-কষাকষি করে সাড়ে চার হাজার টাকার চুক্তিতে আসি। পরে ওই টাকা শহীদুল্লাহর হাতে তুলে দিই।’

একই গ্রামের মোনতাজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়্যারিং পরিদর্শক শহীদুল্লাহকে ঘুষ দিলে বিদ্যুৎ পাইয়ে দিতে পক্ষে প্রতিবেদন দেন। ঘুষ না দিলে বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন। আমার পক্ষে প্রতিবেদন দিতে তাঁকে ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।’

কোষাকান্দা গ্রামের মোজাম্মেল হক ও হোসেন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা দুজন বিদ্যুতের মিটার পেতে দুই মাস আগে আবেদন করি। কিন্তু ওয়্যারিং পরিদর্শক শহীদুল্লাহ আমাদের পক্ষে এখনো প্রতিবেদন দেননি। দেই-দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করছেন।’

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওয়্যারিং পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দালালি করার সুযোগ না দেওয়ায় দু-তিনজন ইলেকট্রিশিয়ান আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কিছু গ্রাহককে দিয়ে এসব মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।’

মন্তব্য