kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ঝিনাইদহে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

প্রধান শিক্ষককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল অভিভাবকরা

বানিয়াচংয়ে প্রধান শিক্ষক সাময়িক বহিষ্কার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঝিনাইদহ শহরের আলহেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার শিকার তিনজন ছাত্রীর অভিভাবকরা গতকাল বুধবার দুপুরে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। আব্দুস সালাম স্থানীয় ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত মতিন মুন্সির ছেলে।

এক ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে লম্পট এই প্রধান শিক্ষক প্রায়ই যৌন নির্যাতন করত বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, শ্রেণিকক্ষে চতুর্থ শ্রেণির তিন ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করতেন প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা গতকাল দুপুরে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করে। বিকেলে একজন অভিভাবক বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা জানতে পেরে আমি স্কুলে গিয়েছিলাম। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে আমি ওই শিক্ষকের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনা জানার পর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। বিভাগীয় তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ ও বানিয়াচং প্রতিনিধি : পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন খানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক এ কে এম সাফায়েত আলম তাঁকে বহিষ্কার করেন। তা ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ছাত্রীর চাচার মৌখিক অভিযোগ পেয়ে স্কুলে যাই। তখন স্কুল কমিটির সভাপতি কাজল চ্যাটার্জি, প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন খান ও ছাত্রীর মা-বাবার সামনে ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনার বর্ণনা দেয়।’

ছাত্রীর বাবা জানান, মঙ্গলবার সকালে তাঁর মেয়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। তখনো অন্য ছাত্রছাত্রীরা এসে পৌঁছায়নি। একা থাকার সুযোগে শিক্ষক মোজাম্মেল কাছে ডেকে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় ভয়ে মেয়েটি দৌড়ে গিয়ে পাশের বাড়ির এক নারীর কাছে আশ্রয় নেয়। ওই নারী খবর পাঠালে মেয়ের মা এসে তাকে নিয়ে যান। শিক্ষক মোজাম্মেল আগেও অনেক ছাত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।

মন্তব্য