kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বিদেশের মাটিতে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী

কীর্তি পুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কীর্তি পুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি

এম হোসেন আলী

আজ ১৮ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে ভারতের কলকাতায় পাকিস্তানের দূতাবাসে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তৎকালীন কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলী। পরে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পাবনার ভাঙ্গুড়ার এই কৃতী সন্তান। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গৌরবময় অবদানের কথা জাতি আজ ভুলে যেতে বসেছে! দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৮ বছর পরও তিনি রয়ে গেছেন সবার অগোচরে। তবে এম হোসেন আলীর স্মৃতি রক্ষায় সরব ভাঙ্গুড়াবাসী। মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি এম হোসেন আলীর কীর্তিগাথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি তাদের।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা এম হোসেন আলী ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাকিস্তান দূতাবাসের ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি দূতাবাস থেকে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এটাই ছিল বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন। এরপর তিনি বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত থেকে ভারতে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও শরণার্থীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে হোসেন আলীকে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিযুক্ত করেন। পরে একই বছরের মার্চ মাসে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি সেখানে অবস্থান করে জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় করতে দেশের পক্ষে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে লবিং করেন। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতেও তাঁর বিরাট অবদান রয়েছে। এরপর ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানিতে রাষ্ট্রদূত ও পরে কানাডার হাইকমিশনার নিযুক্ত ছিলেন।

জাতিসংঘের সাবেক কর্মচারী ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আ ন ম মেজবাহুর রহমান রোজ বলেন, ‘রাজনৈতিক অবহেলার কারণে প্রয়াত রাষ্ট্রদূত এম হোসেন আলী ইতিহাস থেকে মুছে যাচ্ছেন।’

মন্তব্য