kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

গৌরীপুর

রেলের জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেলের জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা

বাড়ির সামনে রেলওয়ের জায়গায় মাটি ফেলে দখলের পাঁয়তারা করছেন রমেন্স নামের এক ব্যক্তি। ছবিটি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ের জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা করছেন আসাদুজ্জামান রমেন্স নামের এক ব্যক্তি। তিনি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) সহকারী এসেসর পদে চাকরি করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গিয়ে বাধা দিলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রমেন্স।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গৌরীপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ১০০ গজ পূর্ব দিকে বাড়িওয়ালা পাড়ায় মসিক কর্মচারী আসাদুজ্জামান রমেন্সের কয়েক শতাংশ জায়গা রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে নিজের ওই জায়গাঘেঁষা রেলওয়ের একটি ডোবায় মাটি ফেলে ভরাটকাজ শুরু করেন রমেন্স। মাটি ভরাট করতে গিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার ব্যক্তিগত জমির বাঁশঝাড় কেটেছেন মসিকের ওই কর্মচারী। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায়, রেলওয়ের জমি দখলের খবর পেয়ে রেলওয়ের পুলিশ মাটি ভরাট করতে বাধা দিলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই পুনরায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন আসাদুজ্জামান রমেন্স।

অভিযোগ উঠেছে, গৌরীপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে মাটি ফেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে। প্রকাশ্যে মাটি ফেলে এভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভরাট করা মাটি উচ্ছেদ কিংবা দখলদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান রমেন্স তাঁর জমিঘেঁষে রেলওয়ের ডোবার দুই পাশে মাটি ফেলে অনেকাংশ দখল করেছেন। অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে রেলওয়ের জায়গা উঁচু করে রাস্তা নির্মাণের কারণে অনেকের বাড়ির প্রবেশপথও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীদের অভিযোগ, রেলওয়ের ডোবার এক কোটি টাকা মূল্যের কয়েক কাঠা জমি দখল করার পরিকল্পনা নিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছেন রমেন্স। এরই মধ্যে এক লাখ টাকার মাটি ভরাট করে এক কাঠা জায়গা দখলও করেছেন। অবৈধভাবে মাটি ভরাট করায় ডোবার পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আসছে বর্ষায় এখানে জলাবদ্ধতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান রমেন্স বলেন, ‘আমি কোনো জায়গা দখল করিনি। আমার অনেক জায়গাই তো খালি পড়ে আছে। তা ছাড়া আমার জায়গায় মাটি ফেলার জন্য পাশের রেলওয়ের একটি গর্ত ভরাট করে রাস্তা করেছি মাত্র। সেখান দিয়ে মাটি আনা-নেওয়ার কাজ হয়েছে। এখন মাটি সরিয়ে নেবে।’

গৌরীপুর রেলওয়ে প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। পরে আবার ভরাটকাজ শুরু হয়েছে কি না—তা আমার জানা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা