kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সড়ক না থাকার কষ্ট

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক না থাকার কষ্ট

কুড়িগ্রাম জেলা সদরের সঙ্গে রৌমারী-রাজিবপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বর্তমানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ব্রহ্মপুত্রের ওপার থেকে জেলা সদরে আসতে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আগে ২০০৫ সালে নেওয়া এলজিইডির পদক্ষেপটি (বর্তমানে স্থগিত) বাস্তবায়ন করা হলে এই পথে যাতায়াতে ১২ ঘণ্টার স্থলে দেড়-দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে। তাতে যেমন সময়ের সাশ্রয় হবে, তেমনি খরচও বেঁচে যাবে।

এলাকাবাসী জানায়, কুড়িগ্রাম সদর থেকে উলিপুর হয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ বিভিন্ন যানবাহনে চেপে চিলমারী যেতে হয়। চিলমারী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বালুপথ হেঁটে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গিয়ে নৌকায় চেপে ১৮ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে পরে প্রায় সাত কিলোমিটার বালুচর হেঁটে রৌমারী সদরে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে রাজিবপুরে যেতে পাড়ি দিতে হয় আরো ২৬ কিলোমিটার পথ।

এসব পথ পাড়ি দিতে পথচারীকে অবর্ণনীয় কষ্ট স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ দুটি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা নিয়োগ পায়, তাদের বেশির ভাগই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে উপজেলা দুটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে, তেমনি সেবাপ্রার্থীও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা দুটি বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ উপজেলা দুটির মানুষের সঙ্গে অন্য এলাকার মানুষ আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রেও তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাদের জীবনযাত্রা অন্য অঞ্চলের মানুষের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে কুড়িগ্রাম এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন কুড়িগ্রামের সঙ্গে যাত্রাপুর হয়ে সরাসরি রৌমারী-রাজিবপুরের সড়কপথে যোগাযোগের পরিকল্পনা নেন। তখন সড়ক নির্মাণে ২২টি প্যাকেজে প্রায় ১৮ কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম থেকে যাত্রাপুর সড়ক ইতিমধ্যে পাকা করা হয়েছে। সেখান থেকে মোল্লারহাট চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করলেই নদীপথে চার কিলোমিটার পরই রৌমারীর খেয়াঘাট। সেখান থেকে তিন কিলোমিটার পেরোলেই রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা। সেই দাঁতভাঙ্গা থেকে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করলেই রৌমারী সদর। খেয়াঘাটে ফেরি সার্ভিস চালু করলে মাত্র দেড়-দুই ঘণ্টায় ওই এলাকায় যাতায়াত সম্ভব হবে।

রৌমারীর সমাজসেবক আবু হানিফ মাস্টার জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে যাতায়াত করে। বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে নৌকা না চলায় যাত্রীসাধারণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গুরুতর রোগী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। তাই রৌমারী-কুড়িগ্রাম সংযোগ সড়ক এই দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।

রৌমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুজাউল ইসলাম বলেন, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গার সালুর মোড় থেকে সাহেবের আলগা নৌকা ঘাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার ও কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তা পাকা করে ব্রহ্মপুত্র নদে ফেরির ব্যবস্থা করলেই রৌমারী ও রাজিবপুরের মানুষ সহজে এবং অল্প সময়ে ২৪ ঘণ্টা কুড়িগ্রামে চলাচল করতে পারবে। তা ছাড়া রাস্তাটি চালু হলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের দূরপাল্লার গাড়ি এই রাস্তায় চলতে পারবে। তাতে একদিকে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনি চলাচলে খরচও কমে আসবে। সেই সঙ্গে কমে আসবে রংপুর-ঢাকা সড়কে যানজটও।

রৌমারীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হাই বলেন, ‘সড়কটি চালু হলে রৌমারী ও রাজিবপুরের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সেই সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ইতিপূর্বে এমন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল কি না আমার জানা নেই। তবে উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে এলজিইডি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা