kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আক্কেলপুর থানার নামে চাঁদাবাজির টোকেন

নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আক্কেলপুর থানার নামে চাঁদাবাজির টোকেন

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী দোলযাত্রা মেলা চলছে। এই মেলায় আসা যানবাহনে মালিক সমিতির পাশাপাশি থানার নামে সিল মেরে টোকেন দিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে গত সোমবার দেখা গেছে, আক্কেলপুর সদর থেকে মেলায় আসা-যাওয়ার পথে পূর্ণ গোপীনাথপুরের তিন মাথা এলাকা। এই মোড়ে ‘আক্কেলপুর থানা, পরিচালনায় শামীম’ লেখা একটি কাগজের টুকরা দিয়ে ৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে।

মেলায় আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই দোলযাত্রা মেলা। মূল মেলা ১৩ দিনের হলেও এটি থাকে মাসব্যাপী। আর এই মেলাকে ঘিরে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই দুই নেতা হলেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আক্কেলপুর সরকারি মুজিবর রহমান কলেজের প্রভাষক আল ইসরাইল জুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর।

মেলায় আসা গরু, মহিষ, ঘোড়া বহনকারী ট্রাক, ভটভটি এবং যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সিএনজিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল উপজেলা থেকে মেলায় ঢোকার সময় পূর্ণ গোপীনাথপুরের তিন মাথায় থানার নামে চাঁদা আদায় করছেন বেলাল হোসেন ও স্বপন হোসেন। তাঁরা প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। ক্ষেতলাল উপজেলার ফুলদীঘি বাজার থেকে মেলায় প্রবেশপথ গোপীনাথপুর বাজারের বাদুড়তলায় ২০ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করছেন ফারুক হোসেন। তাঁর সঙ্গে আরো স্থানীয় কয়েকজন যুবক রয়েছে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা থেকে মেলায় প্রবেশপথ গোপীনাথপুর বাজার। এই এলাকার কড়ইতলীতে ‘গোপীনাথপুর অটো বাইক, অটো ভ্যান ও ভটভটি মালিক সমিতি’র নাম এবং ‘কড়ইতলা (সিএনজি) অটো টেম্পোস্ট্যান্ড’ নামে রসিদ দিয়ে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়সংলগ্ন স্থানে প্রতিটি যানবাহন থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছেন বাচ্চু হোসেন, নয়ন হোসেন, এনাম হোসেন, আলাল, বাবু হোসেন এবং সুমন।

গত রবিবার বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি জয়পুরহাট থেকে দুপচাঁচিয়া যাওয়ার সময় গোপীনাথপুর কড়ইতলীতে মেলার ভেতর রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। এ কারণে ৩০ টাকা চাঁদা দিয়ে আসতে হয়েছে। চাঁদার টাকা না দিলে তাঁরা আমার গাড়ি যেতে দিতেন না।’

অবৈধ যান ভটভটিচালক এনামুল হোসেন বলেন, ‘আমি মেলাতে ঘোড়া নিয়ে আসার সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন লোক গাড়ি আটকিয়ে ৩০ টাকা নিয়েছে। আর তার আগে পূর্ণ গোপীনাথপুর তিন মাথায় থানার নামে ৫০ টাকা চাঁদা দিয়ে মেলায় ঢুকতে পেরেছি। আমার মনে হচ্ছে, মেলার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের লোকজন চাঁদাবাজদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে বসে আছে।’

নাম না প্রকাশের শর্তে এক চাঁদা আদায়কারী গত রবিবার সন্ধ্যায় জানান, ইউপি কার্যালয় এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আল ইসরাইল জুবেল তাদের চাঁদা তুলতে বলেছেন। তাঁরা কয়েকজন দৈনিক হাজিরা হিসেবে টাকা পান। আর কড়ইতলীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর।

চাঁদা আদায়কারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমিসহ আরো দু-একজন থানার টাকা তুলি। বিষয়টি ওসি জানেন।’

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আল ইসরাইল জুবেল চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো লোককে চাঁদা তুলতে বলিনি। থানার ওসিই আক্কেলপুর থেকে লোক নিয়ে এসে মেলার যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছেন।’

গোপীনাথপুর মন্দিরের সেবায়েত সুবেন্দ্র কৃঞ্চ প্রিয়া বলেন, ‘আমাদের মেলাটি ঐতিহ্যবাহী। পূর্বপুরুষের আমল থেকে এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মেলায় চাঁদাবাজি কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।’

আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক কিরণ কুমার রায় বলেন, ‘মেলার কোথাও চাঁদা তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। থানার নামে চাঁদা আদায়, এটাও আমার জানা নেই। এসব বন্ধে আমি লোক পাঠাচ্ছি।’

এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ্উদ্দিন আহমদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা