kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আট বছর ধরে শিকলবন্দি

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




আট বছর ধরে শিকলবন্দি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার পানি উন্নয়ন বাঁধে শিকলবন্দি রুমিছা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় তিন সন্তানের জননী রুমিছা বেগমকে আট বছর ধরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন রুমিছার সুচিকিৎসাও করা যাচ্ছে না। তাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই চিতলমারী থানার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে মায়ের সঙ্গে থাকেন।

জানা গেছে, রুমিছার (৩০) তিনি সন্তানের মধ্যে মেয়ের কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলের কেউ স্কুলে যায় না। বড় ছেলে দিনমজুরের কাজ করে। তাঁর ছোট ছেলের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। সে সারা দিন শিকলবন্দি মায়ের আশপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো মায়ের কোলে গিয়ে বসে, গলা জড়িয়ে ধরে মাকে আদর করে।

রুমিছার মা গোলেজান বিবি জানান, প্রায় আট বছর ধরে তাঁর মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। এদিক-সেদিক চলে যেত, তাই শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।

গোলেজান বিবি আরো জানান, সংসারে অভাবের কারণে ১২ বছর বয়সে তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামী তাকে ছেড়ে দেয়। পরে দ্বিতীয় বিয়ে হয় সাতক্ষীরার দবির মুন্সীর সঙ্গে। কয়েক বছর পর সেও তাকে ছেড়ে চলে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে বিপদে পড়ে মেয়েটি। স্থানীয় এক লোককে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তা আর ফেরত পায় না। উল্টো ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এসব কারণে তাঁর মেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারায়। তিনি মেয়েকে খুলনার এক চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। কিন্তু ভালো হয়নি। এখন আর্থিক দৈন্যতা চরমে। পরিবারের আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। মেয়ের উন্নত চিকিৎসা ও নাতিদের স্কুলে পাঠানো দরকার বলে জানান বয়োবৃদ্ধ গোলেজান।

চিতলমারী সদর ইউপি সচিব পরিতোষ চক্রবর্ত্তী জানান, গোলেজানের পরিবার বিভিন্ন ভাতা পেত। তবে এখন আর পাচ্ছে না।

চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু মুসা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন রুমিছার চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা