kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

পোকার আক্রমণ রাজবাড়ীর গ্রামে

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোকার আক্রমণ রাজবাড়ীর গ্রামে

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে লাখো পোকা বাসা বেঁধেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে ওই বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ওই পোকা খেয়ে এরই মধ্যে বাড়ির আটটি মুরগি মারা গেছে। পোকাগুলো এখন আশপাশের বাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ওই বাড়ির মালিক নুর মোহাম্মদ ভুইয়া। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি জানান, বিগত ঈদুল ফিতরে ৩৭০টি হতদরিদ্র পরিবারের নামে ভিজিএফের তিন হাজার ৭০০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়। শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের মমিন বাজার এলাকার জনৈক মনো মিয়ার হলুদের মিলের একটি ঘরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত খালি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই ঘরে স্তূপ আকারে চাল ফেলে রাখতেও দেখে স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানায়। খবর পেয়ে ইউএনও সাইদুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত তিন হাজার ৭০০ কেজি চাল জব্দ করেন। পরবর্তী সময়ে চালগুলো জেলা পরিষদের সদস্য নুর মোহাম্মদ ভুইয়ার বাড়ির বারান্দার একটি কক্ষে তালায় সিলগালা করে রাখেন।

এ ঘটনায় সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম মনোয়ার মাহমুদ বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় মামলা করেন। এতে সাদীপুর গ্রামের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (আচমত আলী মণ্ডলের ছেলে) তোরাপ আলী মণ্ডল, রামপুর গ্রামের মোজাফ্ফর মুন্সির ছেলে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী এবং একই গ্রামের মোসলেম ঢালির ছেলে মোনো মিয়া ঢালিকে আসামি করা হয়। পুলিশ মোনা মিয়া ঢালিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু চাল বিতরণে কর্তৃপক্ষ আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সম্প্রতি ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি ছেয়ে আছে লাখো রাইস বিটিল (কিরি) পোকায়। বাড়ির বারান্দায় কিছু সময় বসতে গিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। চেয়ার-টেবিল বেয়ে শরীরে প্রবেশ করতে শুরু করে পোকা। নুর মোহাম্মদ ভুইয়া বলেন, ‘এই পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বাড়িতে একদণ্ড অবস্থান করা যায় না। সারাক্ষণ পোকা উড়ে ও বেয়ে বেড়ায়। রাতে বিছানা ঝেড়ে মশারি টানিয়ে কোনো রকমে রাত্রি যাপন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘পোকাগুলো বিষাক্ত। বিষ দিয়ে নিধনের চেষ্টা করেছি। কাজ হয়নি। এগুলো খেয়ে উল্টো বাড়ির আটটি মুরগি মারা গেছে। এই পোকা এখন আশপাশের বাড়িগুলোতে ঢুকছে।’ তিনি জানান, এই চালের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। পরিস্থিতি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরের ইউএনও সাইদুজ্জামান খান বলেন, ‘সদর থানা-পুলিশ প্রথম দিকে মামলাটির তদন্তভার নিলেও তা পরবর্তী সময়ে আদালত ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ের হাতে ন্যস্ত করে।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদক ফরিদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কমলেশ মণ্ডল জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবরে মামলার তদন্তভার তিনি নিয়েছেন। এখনো তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে আদালতের কাছে জব্দ করা চাল বেচার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আদালত অনুমতি দিলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা