kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চালক সংগ্রামী যাত্রী

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চালক সংগ্রামী যাত্রী

সুনামগঞ্জের যাত্রী রানী দত্ত তাঁর ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ইজি বাইকের স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিয়েছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একমাত্র নারী ইজি বাইকচালক যাত্রী রাণী দত্ত (৩২)। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ইজি বাইক চালাচ্ছেন তিনি। যাত্রী যেদিন ইজি বাইক চালানো শুরু করেন সেদিন ছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আশপাশের মানুষের কটূক্তিকে অগ্রাহ্য করে ইজি বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন সংগ্রামী এই নারী।

যাত্রী তাহিরপুর উপজেলার টেকাটুকিয়া গ্রামের দেবেন্দ্র বর্মণ (মৃত) ও শুভা রাণী বর্মণের বড় মেয়ে। যাত্রীর বয়স যখন আট বছর তখন তাঁর বাবা মারা যান। সেই থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়। পাথর ভাঙা, অন্যের বাসায় কাজ, মেসে রান্না করা—সব কাজই করেছেন যাত্রী। এখন নবীনগরে স্বামী, মা ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকছেন।

যাত্রীর স্বামী জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের হৃদয় দত্ত বাড়ি থেকে অভিমান করে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে এসে রিকশা চালাতেন। ৯ বছর আগে হুট করে হৃদয়কে বিয়ে করেন যাত্রী। কিন্তু ‘নিম্নবংশের’ হওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই হয়নি তাঁর। যাত্রী-হৃদয়ের বড় ছেলে অভিজিৎ দত্ত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। মেয়ে ঝুমা রাণী প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে রুমাকে (৩) মায়ের কাছে রেখে ইজি বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন যাত্রী।

কিস্তিতে স্বামীকে ইজি বাইকটি কিনে দিয়েছিলেন যাত্রী। কিন্তু স্বামী তা ফেলে রাখায় নিজেই ইজি বাইক চালানো শিখে নেন। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রথম ইজি বাইক নিয়ে রাস্তায় নামেন তিনি। সেদিন জেলা মহিলা পরিষদের নেত্রীরা ইজি বাইকসহ তাঁকে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নিয়ে এসেছিলেন। যাত্রী বলেন, ‘পয়লা পয়লা আমারে দেইক্যা কিছু মানুষ উল্টাপাল্টা কথা কইছিল। আমি গায়ে মাখিনি। আমার সংগ্রাম আমারেই করতে অইব।’ তিনি আরো বলেন, ‘জীবন কত কঠিন আমার চাইতে কেউ বুঝবে না। আমি চাই আমার সন্তানরা যেন কারো বাসাবাড়িত কাজ না করে। সংগ্রাম করে আমি তাদের পড়াব। যতই কষ্ট হোক তারার পড়ালেখা বন্ধ করব না।’ এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘যাত্রী রাণীর ইজি বাইক চালানো দেখে এখন অনেক নারীই গাড়ি চালানোর কথা ভাবছেন।’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক বলেন, ‘মফস্বল শহরে একজন নারী ইজি বাইক চালাচ্ছেন—এটা সাহসী ব্যাপার। এই সংগ্রামী নারীকে (যাত্রী) আমরা অভিনন্দন জানাই। তাঁকে সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা