kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

উল্লাপাড়া

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সলপ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য সুমাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে দুস্থদের সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারণার শিকার দুস্থরা গত সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রতারণার শিকার বড়হর ইউপি সদস্য মোছা. রুমি বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে সলপ ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তাঁর নিকটাত্মীয় বড়হর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন ও মো. সবুজকে দিয়ে বড়হর মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম থেকে অসহায় দুস্থদের সরকারি অনুদানের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সেলাই মেশিন, বিনা মূল্যের ঘর ইত্যাদি দেওয়ার কথা বলে শতাধিক লোকের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। ওই দুস্থরা বিভিন্ন সমিতি-এনজিও থেকে ঋণ করে তাঁদের এসব টাকা দেয়।

বড়হর মধ্যপাড়া মহল্লার রানু খাতুন, হাজেরা খাতুন, আলেয়া বেগম, রোকেয়া খাতুনসহ কয়েকজন বলেন, ‘ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তাঁর লোক দিয়ে আমাদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করেন। কিন্তু সেসবের কিছুই আমরা পাইনি। এখন আমাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকাও দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’

বড়হর মধ্যপাড়া গ্রামের রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার কথা বলে সুমাইয়া পারভীন আমার কাছ থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। তিনি নিজেকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মামলার কাগজ ও টাকা নিলেও কোনো কাজই করেননি।’ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

দুস্থদের বিভিন্ন অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সুমাইয়া পারভীনের পক্ষে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বড়হর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন ও সবুজ হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে আমরা পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছি।’

তবে সলপ ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন দাবি করেন, ‘সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিইনি। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা-পয়সা নিলে এ জন্য আমি দায়ী নই। একটি মহল অন্যায়ভাবে আমাকে জড়াচ্ছে।’

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, দুস্থরা তাঁর কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা