kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

কলাপাড়ায় দেদার পুড়ছে গাছ

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলাপাড়ায় দেদার পুড়ছে গাছ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইটভাটায় এভাবেই নির্বিঘ্নে গাছ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট! ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় নির্বিঘ্নে গাছ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট! দুই বছর আগে উপজেলার চাম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে কৃষিজমিতে ‘বিসমিল্লাহ ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এতে টিনের চিমনি বসিয়ে, নির্বিচারে গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। একই সঙ্গে সেখানে একটি করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। করাতকলের (সমিল) মাধ্যমে গাছের গুঁড়ি চিরে ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের ধানখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাটার চুল্লির ওপরে বড় বড় গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা। শ্রমিকরা পাশের করাতকল থেকে চিরে ফালি করে রাখা কাঠ সংগ্রহ করে চুল্লিতে দিচ্ছে। রাস্তার দুই পাশ, কৃষিজমি, সমিলের মাঠসহ চারদিকে বিশাল বিশাল গাছের স্তূপ। জানা যায়, এসব গাছ আশপাশের গ্রাম থেকে কেটে আনা হয়েছে।

ইটভাটার শ্রমিক মিলন মিয়া বলেন, ‘এ ভাটায় দুই বছর ধরে গাছ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা শ্রমিক মানুষ, ভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কাজ করি, পারিশ্রমিক পাই। এর বাইরে কিছুই বলতে পারব না।’

ইটভাটা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত দুলাল তালুকদার বলেন, ‘এবার এ ভাটায় ১০ লাখ ইট প্রস্তুতের কাজ চলছে। এসব ইট গাছের গুঁড়ি দিয়েই পোড়ানো হবে। ভাটাটি নতুন বলে গাছ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করতে হচ্ছে।’ সমিল বসানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বড় বড় গাছের গুঁড়ি চুল্লিতে ঢোকানো যায় না। তাই চিরে ফালি করার জন্য সমিল বসানো হয়েছে।’

স্থানীয় লোকজন জানায়, ঘনবসতি এলাকায় দু-তিন বছর ধরে গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরি করে আসছেন স্থানীয় দুলাল তালুকদার ও কলাপাড়া এলাকার মজিবর মোল্লা। ভাটায় পোড়ানোর জন্য এসব গাছ ট্রলির মাধ্যমে পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামের রাস্তা নাজুক করে ফেলেছেন।

পথচারী ইকবাল হোসেন বলেন, ভাটার টিনের চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ার ঝাঁজালো গন্ধে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, ‘ভাটার মালিক মজিবর মোল্লাকে মৌখিকভাবে গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরি করতে নিষেধ করেছি; কিন্তু তিনি শোনেননি।’

বিসমিল্লাহ ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মজিবর মোল্লা বলেন, ‘আমরা গত বছর ড্রামের চিমনির মাধ্যমে গাছ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুতের কাজ শুরু করি। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে ড্রামের চিমনির ক্ষতি হয়েছে। এখন আমাদের ভাটাটি বৈধ প্রক্রিয়ায় নির্মাণের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।’

এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুটি অবৈধ ইটভাটা শনাক্ত করেছি। ওই সব ভাটায় অচিরেই অভিযান চালানো হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা