kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুলবাড়িয়ায় গণগ্রন্থাগার ভ্যান রিকশার দখলে

আব্দুল হালিম, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুলবাড়িয়ায় গণগ্রন্থাগার ভ্যান রিকশার দখলে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া গণগ্রন্থাগারটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ। গ্রন্থাগারের সামনের বারান্দায় রাখা হয় ভ্যান-রিকশা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফুলবাড়িয়া গণগ্রন্থাগার কাম মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় ১৯৮৭ সালে পাঠকক্ষ উদ্বোধন করা হয়। এতে আড়াই হাজার বই ছিল। শুরুর পাঁচ বছর জ্ঞানপিপাসুদের আনাগোনা ছিল রীতিমতো। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বই পড়া ও আড্ডায় জমে উঠত গণগ্রন্থাগারটি। এখন সেখানে আর কোনো পাঠক যায় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে ফুলবাড়িয়া পৌরসভা স্থাপিত হয়। ২০১৮ সাল পর্যন্ত গণগ্রন্থাগারে চলে পৌরসভার কার্যক্রম। পৌরসভার নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় গণগ্রন্থাগারটি ভাড়া দেওয়া হয় পৌরসভার কাছে। তখন গ্রন্থাগারের দুই হাজার বইসহ আসবাবপত্র রাখা হয়েছিল অফিসার্স ক্লাবে। অরক্ষিত থাকায় আসবাবপত্র ও কিছু বই চুরি হয়ে যায়। উইপোকায় খেয়ে নষ্ট করে ফেলে বাকি প্রায় সব বই।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন গণগ্রন্থাগারের বারান্দায় রাখা হয়েছে ভ্যান রিকশা। সামনে বাঁশশিল্পের বিভিন্ন কাজ করছে শ্রমিকরা। জানালায় উঁকি দিয়ে গ্রন্থাগারের ভেতরে দেখা যায় মাকড়সার জাল, ঘুণপোকার গুঁড়া, ধুলাবলি এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন। গ্রন্থাগারিক ও নৈশপ্রহরীর বেতন-ভাতা না দেওয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে বারবার বন্ধ হয়েছে গ্রন্থাগারটি—এমন অভিযোগ পাঠকদের।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৮৭ সালে গণগ্রন্থাগার চালু হলেও ১৯৯২ সালে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া অনেক বই ফেরত দেয়নি পাঠকরা। এক যুগ গণগ্রন্থাগারটি বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনানী বিশ্বাস তা খোলার জন্য তাগিদ দেন। আবারও সদস্য সংগ্রহের কাজ চলে। কয়েক মাস চালু থাকার পর পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ১৯৯৬ সালে পুরনো কোর্ট ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে গণগ্রন্থাগারের জন্য আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন। তিন বছর নিয়মিত খোলা হতো, পাঠকও আসত। কালবৈশাখীতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অফিস ভেঙে গেলে গ্রন্থাগারে হয় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যালয়। প্রকল্পের অফিসটি সরিয়ে নেওয়ার পর বন্ধ থাকে গণগ্রন্থাগারটি।

ফুলবাড়িয়া কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজিয়া আক্তার বলেন, ‘গণগ্রন্থাগার নিয়মিত খোলা থাকলে বইপ্রেমীদের নিয়মিত যাতায়াত থাকত। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও ভালো লেখকের বই পড়ে জ্ঞান অর্জন সম্ভব ছিল।’

গণগ্রন্থাগারের সদস্য এম আর মতিন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন এলাকার পাঠকদের কথা চিন্তা করে সমৃদ্ধ ও আলোকিত জাতি গঠনে লাইব্রেরি নতুন করে আবারও কার্যক্রম চালু করবে।’

গণগ্রন্থাগারের যুগ্ম সম্পাদক মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘গ্রন্থাগারটি চালু করে নতুন নতুন বই সংগ্রহ, গ্রন্থাগারিক ও নৈশপ্রহরীর বেতন-ভাতার স্থায়ী সমাধান করলে গণগ্রন্থাগারটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।’

ফুলবাড়িয়ার ইউএনও লীরা তরফদার বলেন, ‘গণগ্রন্থাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নতুন উদ্যমে চালু করার জন্য এটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে, যা প্রক্রিয়াধীন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা