kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খরস্রোতা নন্দকুজা প্রাণহীন

বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খরস্রোতা নন্দকুজা প্রাণহীন

নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নন্দকুজা নদীটি এখন মৃতপ্রায়। বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি থাকলেও শুকনা মৌসুমের শুরুতেই এটি শুকিয়ে যায়। তা ছাড়া জেলার গুরুদাসপুর পৌরসভার বর্জ্য, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলিমাটি জমা হওয়া, নদীর দুই পারের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ায় মরে যাচ্ছে এককালের খরস্রোতা নন্দকুজা নদী।

আশির দশকের শুরুতে উজানে রাজশাহীর চারঘাটে এবং ১৯৯০ সালের দিকে বড়াইগ্রামের আটঘড়িয়ায় স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে নদীটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে নদীতে পলিমাটি জমার পাশাপাশি প্রভাবশালীদের হাতে এর দুই পার দখল হতে থাকে। দিনে দিনে এটি সংকুচিত হয়ে পড়ে।

এদিকে চাঁচকৈড় হাটসহ গুরুদাসপুর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে নদীটি। তা ছাড়া নাটোর সুগারমিল ও যমুনা ডিস্টিলারিজের বর্জ্য পদার্থ নন্দকুজা নদীতে ফেলার কারণে এর পানি দূষিত ও বিষাক্ত হতে থাকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী ড. মো. রেদওয়ানুর রহমানের প্রবন্ধ থেকে পাওয়া যায়, মাত্র ৩০ বছর আগেও গুরুদাসপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নন্দকুজা নদীতে বছরজুড়ে ছয় থেকে ১২ ফুট পানি থাকত। ফলে বছরজুড়েই স্বাভাবিকভাবে নৌকা চলাচল করত। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে আর দখলের কারণে নদী সংকুচিত এবং ভরাট হয়ে গেছে।

নদীর দুই পারের মানুষ জানায়, নন্দকুজা নদী আগে বেশ গভীর ছিল। পদ্মার পলি পড়ে পড়ে এখন ভরাট হয়ে গেছে। এখন সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটিই দাবি, নদীটি খনন করে যেন হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনা হয়।

নদী রক্ষা কমিটির বড়াইগ্রাম শাখার সভাপতি ডি এম আলম বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে নদীগুলোকে সচল করার বিকল্প নেই। তাই সব ধরনের দখল উচ্ছেদ এবং নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই রাজশাহীর চারঘাট এবং বড়াইগ্রামের আটঘড়িয়ার স্লুইস গেট দুটি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তা ছাড়া গোটা নদীতে ড্রেজিং করতে হবে।

চলনবিল রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতহার হোসেন বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে নদী বাঁচাতে হবে। নন্দকুজার মতো আত্রাই, গুড়ই, গুমানী নদীগুলোরও করুণ অবস্থা। নদীগুলো সংস্কার না করায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নদীর পানি না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। নেই অভয়াশ্রম। ফলে এসব নদীতে আর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের দেখা মেলে না।

এ ব্যাপারে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের নদীগুলো উদ্ধারে কাজ করছে। সেই সঙ্গে নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নদী বাঁচাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা