kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ইসলামপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেটের বিরুদ্ধে পরিষদ পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগসহ ইউএনওর কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ইউপি সদস্যরা। এতে পরিষদের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন ইউপি সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য ওবায়দুল হক বাবু জানান, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট ১১ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে যমুনার দুর্গম চর জিগাতলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটিকাটা কাজের প্রকল্প কমিটি করেন। বর্তমানে তাঁর আস্থাভাজন ইউপি সদস্য রজব আলীকে দিয়ে মনগড়াভাবে ওই প্রকল্পের কাজ করছেন। এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের ৪৩৮ টনের মধ্যে ২২০ টন গম উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়াও ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে চলতি অর্থবছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প দাখিল করেছেন চেয়ারম্যান। গত বছর একটি সংস্থার মাধ্যমে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করেন দুই লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা ওই সংস্থাকে কমিশন দেন। বাকি দুই লাখ আট হাজার ৬০০ টাকা আজও পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেননি।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, গত বছর ভিজিডির বরাদ্দের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়াসহ কার্ডধারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উেকাচ নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যানের একক আধিপত্য ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পরিষদের সরকারি নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী। সর্বশেষ প্রায় চার মাস ধরে পরিষদের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে তারা দুদকে অভিযোগের পাশাপাশি ইসলামপুরের ইউএনওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেয়।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অনৈতিক কাজে সাড়া না দেওয়ায় উল্টো ইউপি সচিব মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করার বানোয়াট অভিযোগ এনে ইসলামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ইউপি চেয়ারম্যান। তা ছাড়া চেয়ারম্যানের নানা হুমকির মুখে ইউপি সচিব প্রায় চার মাস ধরে পরিষদে যেতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট বলেন, ‘ইউপি সদস্যরা পরিষদ পরিচালনায় আমাকে বিভিন্ন অবৈধ চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের অবৈধ আবদারে সাড়া দিইনি। তাই তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।’

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনাস্থা প্রস্তাব আবেদনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান সনেটের কাছে জবাব চেয়ে পত্র দিয়েছি। ২০ ফেব্রুয়ারি  তদন্তের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা