kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

গ্রন্থাগারের ভেতরে ইউপি কার্যালয়

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্রন্থাগারের ভেতরে ইউপি কার্যালয়

সিলেটের ‘দ্য জকিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালে। দুই বছরের মাথায় ১৯৬০ সাল থেকে এর ভেতরেই জকিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় স্থাপিত হয়। লাইব্রেরির ভেতরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানোর কারণে দিনে দিনে লাইব্রেরিটি তার বৈশিষ্ট্য হারায়। বর্তমানে অর্থের অভাবে লাইব্রেরিটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ বলা চলে।

‘দ্য জকিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী লুত্ফুল করীম জানান, জকিগঞ্জ পৌরসভার কেছরী গ্রামের প্রয়াত আতিকুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরিটির নামে ২৮ শতক জায়গা দান করেন। পৌরসভা গঠনের আগে জকিগঞ্জ বাজার ও পাঠাগার এলাকা জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন থেকে ইউনিয়নের নিজস্ব জায়গা ও অফিস না থাকায় ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরির একটি ঘরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিলেট জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে লাইব্রেরির জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়। লাইব্রেরি পরিচালনা কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ইউপি কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর এবং লাইব্রেরিকে বকেয়া ভাড়া বাবদ প্রায় ২৪ লাখ টাকা দিতে বলেন। তবে জকিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান তাতে সাড়া দেননি। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, জকিগঞ্জ ইউনিয়ন ভবন ও লাইব্রেরি একই দাগের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত বিধায় এটি ইউপি কমিউনিটি কাম পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে বহু আগে থেকেই পরিচিত। তা ছাড়া প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চলে আসছে।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, জকিগঞ্জ ইউনিয়নের নিজস্ব ভবন ইউনিয়ন সীমানার মধ্যে তৈরির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নের কার্যক্রম স্থানান্তরিত হবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান কার্যালয়ের স্থানের ব্যবহার নিয়ে ইউনিয়নবাসী সিদ্ধান্ত নেবে।

‘দ্য জকিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী লুত্ফুল করীম আরো জানান, লাইব্রেরিতে বর্তমানে দুই হাজার বই রয়েছে।

জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত পাল জানান, লাইব্রেরিটিতে একসময় প্রায় ১০ হাজার বই ছিল। পাঠকরা শুধু পাঠাগারে বসে নয়, নিয়মিত বাড়িতে নিয়েও বই পড়তে পারত।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাবলিক লাইব্রেরি পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিজন কুমার সিংহ বলেন, লাইব্রেরিকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা