kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

মির্জাপুর থানা ডোবাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুর থানা ডোবাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা

গত ১৭ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার এসআই মো. শফিকুল আলম মির্জাপুর পৌর এলাকার সাহাপাড়া গ্রাম থেকে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া সরকারপাড়া গ্রামের টিউবওয়েল মিস্ত্রি জিন্নাহ মিয়ার ছেলে মশিউর রহমান পলাশ ও তাঁর দুই বন্ধু রোমন এবং সানজিতকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৫ হাজার টাকা দিয়ে থানা থেকে জিন্নাহ তাঁদের ছাড়িয়ে নেন। এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে তর্ক, মির্জাপুরে তিন যুবককে ধরে ১৫ হাজার টাকা নিলেন এসআই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত এসআই। ২৫ অক্টোবর ‘ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন এসআই’ এবং ২৬ অক্টোবর ‘ঢাকায় এসে সাক্ষ্য দিলেন টিউবওয়েল মিস্ত্রি ও তাঁর ছেলে’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে আরো দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিকে গত ৮ নভেম্বর মির্জাপুর থানার এসআই প্রকাশ চন্দ্র সরকার করা এক গায়েবি মামলায় মশিউর রহমান পলাশকে চার নম্বর আসামি করা হয়। গত ২২ জানুয়ারি ওই মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে পলাশও টাঙ্গাইল আদালতে জামিন নিতে গেলে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

১৯ জানুয়ারি রাতে মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আলমাছ মিয়ার বাড়িতে ডাকাতি চেষ্টার সময় এলাকাবাসী মির্জাপুর থানার এসআই সোহেল কুদ্দুছসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে অভিযুক্ত এসআই সোহেলকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। বিষয়টি তদন্ত চলছে বলে জানান এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার মো. আফসার উদ্দিন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সাদা পোশাকে থাকা মির্জাপুর থানার এএসআই মো. মুশরাফিকুর রহমান ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ তাদের ছয়-সাতজন সোর্স গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তিনজনকে অপহরণ করে। কালিয়াকৈরের বরইবাড়ী গ্রামের রায়হান সরকার, লাবিব সরকার ও ডাকুরাই গ্রামের মাফিনের কাছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল থাকার কথা বলে তাদের সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলক্রসিং ফ্লাইওভারের নিচে নিয়ে যায়। পরে তাদের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে মির্জাপুর থানার পুলিশ তাদের আটক করে। গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর ও টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর উপজেলার বরইবাড়ী গ্রামের রায়হান সরকার বাদী হয়ে ওই দুই পুলিশ সদস্যসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয়-সাতজনকে আসামি করে শুক্রবার কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গাজীপুরের ডিবি অফিসে থাকাকালে গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতন চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা নারায়ণগঞ্জ সদর থানা থেকে গত নভেম্বরে কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর থানায় যোগদান করেন। মুশরাফিকুরের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরো অভিযোগ রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুর থানার একাধিক পুলিশ জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, উপজেলার গেড়ামারা গ্রামে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সভায় তখন বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, কতিপয় পুলিশ সদস্য আপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা