kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তালাবন্দি ১৪ বছর

গোলাম রসুল, দুর্গাপুর (রাজশাহী)   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালাবন্দি ১৪ বছর

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গণগ্রন্থাগারে ১৪ বছর ধরে তালা ঝুলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাশ দিয়ে কেউ হেঁটে যেতে থাকলে থমকে দাঁড়াত। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করত, ‘ভাই, এখানে এত ভিড় কেন?’ প্রত্যুত্তরে লোকজন বলত, বই পড়তে এসেছে। সেই ভিড় লাগার স্থান রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা গণগ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে আছে ১৪ বছর ধরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলঘরিয়া গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্র মাহাবুবের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৮ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় গ্রন্থাগার। প্রশাসন, সাহিত্যিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক, শিল্পপতি ও শিক্ষিত যুবকদের সহযোগিতাও ছিল। উপজেলা মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় এটি গড়ে তোলা হয়। তবে মাহাবুবকে এ জন্য প্রেরণা ও অর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব মোল্লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুর রহমান ও শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক। এর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ, সমাজসেবক আহম্মেদ আকবর হোসেন হেনা, স্থানীয় যুবক জার্জিস হোসেন সোহেল, ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল হক টুলু প্রমুখ। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল এটি। এরপর মাহাবুব পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে যোগদান করলে পরিচালনার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় গ্রন্থাগারটি। সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলা মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় এটি তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি দেখার মতো কেউ নেই। তবে গ্রন্থাগারের কিছু আসবাবপত্রের দেখা মিলেছে ভবনের সিঁড়ির নিচে। ভবনে আনসার-ভিডিপি অফিসের এক কর্মী জানান, কয়েক বছর ধরে সিঁড়ির নিচে দুটি র‌্যাক পড়ে আছে। এগুলো বই রাখার।

গণগ্রন্থাগারের আজীবন সদস্য দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ বলেন, ‘মাহাবুব চলে যাওয়ার পর থেকে গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এখানে কত শিক্ষিত যুবক, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা মেধার বিকাশ ঘটাতে প্রতিনিয়ত আসত। তখন গ্রন্থাগারের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যেত। কেউ কবিতার বই, কেউ বা উপন্যাস, আবার কেউ খবরের কাগজ পড়ত মন দিয়ে।’ তিনি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আবার গ্রন্থাগারটি চালু করার দাবি জানান।

সাংবাদিক নুরুল ইসলাম বলেন, “গ্রন্থাগারটি পাঠপিপাসু লোকজনের ভিড়ে মুখরিত হয়ে থাকত। আমার লেখা ‘কশাঘাত’ নামের উপন্যাসটিও ছিল সেখানে। এটি পড়ে কোনো কোনো পাঠক আমার খোঁজ নিয়ে ধন্যবাদ জানাতে আসত আমার বাড়িতে।”

দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক ও গণগ্রন্থাগারের নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল হক টুলু বলেন, ‘গণগ্রন্থাগার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্ঞানের আলো যেন থমকে গেছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার বলেন, ‘গণগ্রন্থাগারের বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। সেই সঙ্গে এটি কিভাবে পুনরায় চালু করা যায় সেই উদ্যোগ নেব।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা