kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভালুকায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ৪০টি দরিদ্র পরিবার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের ভালুকায় উচ্ছেদ আতঙ্কে প্রায় ৪০টি হতদরিদ্র পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের তালুটিয়া গ্রামের।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারাঙ্গী মৌজার ৯৬ ও ৯৮ নম্বর দাগের ৩ একর ৩১ শতাংশ জমি সরকারি গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনভূমি বলে দাবি করছে স্থানীয় বন বিভাগ। বন বিভাগের একটি সাইনবোর্ডও ওই জমিতে বিদ্যমান। উপজেলার উথুরা রেঞ্জ অফিস থেকে ৪০০-৫০০ মিটার দূরের ওই জমিতে বর্তমানে প্রায় ৪০টি পরিবারের বসবাস। তারা সবাই হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের অনেকের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষের কবরও ওই জমিতে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় মৃত সোনাউল্লা সরকারের ছেলে হাফিজ উদ্দিন গং উপজেলার নারঙ্গী মৌজার ৯৮ দাগের ১ একর ২৮ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন এবং ওই জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য সহকারী জজ আদালতে মামলা করলে আদালত বাদীর পক্ষে রায় দেন। পরে আদালতের মাধ্যমে বাদীপক্ষ গত বৃহস্পতিবার পুলিশ নিয়ে নারাঙ্গী মৌজার ওই জমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে জমিতে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একই দিন জেলা জজ আদালতে আপিল করা হয়। পরে শুনানি শেষে সহকারী জজ আদালতের রায়ের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন জেলা জজ আদালত।

পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বংশপরম্পরায় ওই জমিতে বসবাস করে আসছে। তাদের মধ্যে কারো কারো দাবি, ক্রয় সূত্রে তারা ওই জমির মালিক হলেও তাদের কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। তবে তারা প্রত্যেকেই ভূমিহীন। ওই জমিটুকু ছাড়া তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। ওই জমিতে বসবাসকারী হাবলু মিয়া জানান, তাঁরা প্রায় ৪০টি পরিবার যুগের পর যুগ ধরে বনের ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। বনের এই জমি ছাড়া তাঁদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই।

মামলার বাদী হাফিজ উদ্দিনের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী তাঁর ভাই শামছুদ্দিন বলেন, ‘সিএস, আরওআর মূলে আমরা নারাঙ্গী মৌজার ৯৮ দাগের জমির মালিক। আমাদের জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য আদালতে মামলা করে রায় পেয়েছি। গত শনিবার আদালত পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে  আদালতে আপিল করা হলে আদালত আমাদের মামলার রায়ের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা