kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নান্দাইলে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল শারমিনা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আগের রাত থেকে গানবাজনা বাজিয়ে অনুষ্ঠান চলছিল বাড়িটিতে। ১৫ বছর বয়সী শারমিনার বিয়ে উপলক্ষে ওই আয়োজন করা হয়। এ প্রতিনিধির মাধ্যমে বাল্যবিয়ের খবর পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই কিশোরীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউএনওর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে শারমিনা।

ওই কিশোরীর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মাদারীনগর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মস্তুফা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শারমিনার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল একই ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের ছেলে দ্বীন ইসলামের (২৫) সঙ্গে। তিনি স্থানীয় বাজারে টেইলার্সের কাজ করেন। গতকাল দুপুরে শারমিনাদের বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন চলছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুকন উদ্দিন আহমদসহ এ প্রতিনিধি। একপর্যায়ে বাড়ির সামনে দুটি মাইক্রোবাস ও দুটি ইজিবাইকযোগে বরপক্ষের আগমন ঘটে। মাইক্রো থেকে নেমে বর আসনগ্রহণ করা মাত্রই বাদসাধেন ইউএনও। তিনি মেয়ের বাবাকে ডেকে এনে জন্মনিবন্ধন দেখতে চান। এ সময় জন্মনিবন্ধনটি দেখে ইউএনওর সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ডেকে নেন। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার ও চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় ইউপি সচিব আবু সোয়েম শাহিন ও ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মেজবাহ উদ্দিনকে ভর্ত্সনা করেন ইউএনও। পরে  বর ও কনের বাবা মেয়ের বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই বিয়ে সম্পন্ন করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দেন।

নান্দাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম বলেন, ‘আমি বাল্যবিয়ে নিয়ে জেহাদ ঘোষণা করেছি। কোনোভাবেই বাল্যবিয়ে হতে দেওয়া হবে না। এতে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা