kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ

নানা সংকটে ব্যাহত শিক্ষা

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজটি শিক্ষক-কর্মচারী, শ্রেণিকক্ষ ও ভৌত অবকাঠামো সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালের ১ মে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়। এটি লাকসামের একমাত্র সরকারি কলেজ। ১৯৯৮ সাল থেকে এ কলেজে স্নাতক (সম্মান) বিভাগ চালু হলেও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে কলেজটিতে সাতটি বিষয়ে স্নাতক কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে কলেজে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪২৩ জন।

১৯৯৮ সালে সম্মান বিভাগ চালু হওয়ার কারণে কলেজটিতে প্রদর্শকের পদসহ মোট ৭৯ জন শিক্ষকের পদ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু তা আজও পর্যন্ত হয়নি। ফলে সেই পুরনো মঞ্জুরীকৃত ৬৭ জন শিক্ষকের পদই বহাল রয়েছে। তার পরও সেই ৬৭ পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৩ জন শিক্ষক।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, কলেজটিতে নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে সাতজন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। সৃষ্ট পদের মধ্যে আবার কোনো কোনো বিভাগে একজন শিক্ষকও নেই। ফলে প্রতিটি বিষয়ে জোড়াতালি দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ ও সমাজকর্ম এবং কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। ইংরেজিতে প্রভাষকের দুটি পদের একটি শূন্য। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে চারটি পদের দুটিই শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজজ্ঞািন বিভাগে প্রভাষকের দুটি করে পদ। এগুলোও শূন্য রয়েছে। বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের পদ দুটিও রয়েছে শূন্য। হিসাববিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষকের তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য। এ ছাড়া পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শকের তিনটি পদেই কোনো শিক্ষক নেই।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ সিদ্দিকী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট লেগেই রয়েছে।’ একপর্যায়ে তিনি বিরক্তির সুরে টেবিল চাপড়িয়ে বলেন, ‘গত চার বছরে ৬০০ বার কলেজের শিক্ষক ও জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি।’ তিনি জানান, কলেজের পশ্চিমাংশে প্রায় শত বছরের পুরনো ১৪ কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন বহু আগেই পরিত্যক্ত। দেখলে মনে হয়, এ যেন একটি ভূতুড়ে বাড়ি। এটি ভেঙে নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণ করলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর করা সম্ভব হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা