kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

খেলার স্বাদ পেল লামিয়া

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খেলার স্বাদ পেল লামিয়া

গত পরশুর লামিয়া (বাঁয়ে); গতকালের লামিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাচা-চাচি ও চাচাতো ভাই-বোনদের নির্যাতনের শিকার শিশু লামিয়া আক্তারের (৯) ঠাঁই হয়েছে সরকারি শিশু পরিবারে। শিশু পরিবারে গতকাল শনিবার প্রথম দিনটি বেশ আনন্দেই কাটিয়েছে লামিয়া। সেখানকার শিশুদের সঙ্গে সে খেলাধুলা করেছে, টিভি দেখেছে।

লামিয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটের মো. কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে। লামিয়ার দুই বছর বয়সে মা ও চার বছর বয়সে বাবা মারা যান। এর পর থেকে চাচা মো. রমজান মিয়ার মেড্ডা সিও অফিসসংলগ্ন বাড়িতেই থাকত সে। সেখানেই সে চাচা-চাচি ও চাচাতো ভাই-বোনদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তাকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হতো। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান তাপস, সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশনআরা খাতুনের কাছে শিশু লামিয়াকে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় সে কান্না করে তার কথিত মায়ের (নির্যাতনকারী চাচি) কাছে যেতে চাচ্ছিল। চাচিকে সে মা হিসেবেই জানত। রাতে লামিয়াকে সদর থানা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে নিয়ে যেতে রওনা হন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাদ সাধে এতিম শিশু লামিয়া নিজেই। যেতে চায় সেই ‘বাবা-মা, ভাই-বোনদের (চাচা-চাচি, চাচাতো ভাই-বোন)’ কাছে, যাদের নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন তার শরীরে! মায়ের (চাচি) কাছে যেতে সে কেঁদেই ফেলে। কারণ, এদের সে মা-বাবা-ভাই-বোন হিসেবেই জানে। এখনো সে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশনআরা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) লামিয়া বেশ উচ্ছ্বল। পরিবারের অন্য শিশুদের সঙ্গে সে খেলা করেছে। একসঙ্গে বসে খাবার খেয়েছে। টিভি দেখেছে। তাকে নতুন দুটি পোশাক কিনে দেওয়া হয়েছে। প্রসাধনসামগ্রীও কিনে দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুটির থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউল হক জানান, কথিত মাকে গ্রেপ্তারের পর থানার যে কক্ষে রাখা হয় সেখানে বারবার যেতে চায় লামিয়া। নির্যাতনকারীদেরই সে মা-বাবা, ভাই-বোন হিসেবে জানত। মারধরের বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছিল লামিয়া।

গতকাল কালের কণ্ঠে ‘একজন মারত, ভিডিও করত আরেকজন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা