kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা

পথে নামলেন বৃদ্ধ সেকান্দার

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথে নামলেন বৃদ্ধ সেকান্দার

বাগেরহাটের শরণখোলায় মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলীকে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সেকান্দার আলী মৃধা (৬৯)। প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাঁকে। পরিবারের ভরণ-পোষণে এখন তিন চাকার ভ্যানগাড়িই একমাত্র ভরসা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চললেও নানা রোগে আক্রান্ত শরীরটাকে চিকিৎসা করানো হয়ে উঠছে না।

গত বুধবার বিকেলে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের রায়েন্দা-তাফালবাড়ী গ্রামের মৃত আ. অহেদ মৃধার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলী মৃধার (মুক্তিবার্তা নম্বর ০৪০৩৭০৪৩৬, গেজেট নম্বর ১৩৩১) সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠ’র এ প্রতিবেদকের। তাঁকে খুঁজতে বাড়িতে যেতে হয়নি। তাফালবাড়ী বাজারে ভ্যান চালানো অবস্থায়ই পাওয়া যায়। সেকান্দার আলী বলেন, ‘তখন বয়স ২১ বছর। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যুদ্ধে যাইনি। দেশকে পরাধীনতার গ্লানিমুক্ত করতেই জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম।’ 

সেকান্দার বলেন, ‘বাড়ির দুই কাঠা জমি ছাড়া আর জমি নেই। মূত্রনালির অপারেশনে ডাক্তার বলেছে এক লাখ টাকা লাগবে। কয়েক মাস আগে ১২ হাজার টাকা ধারদেনা করে চোখের নেত্রনালির অপারেশন করিয়েছি। শরীরে আরো নানা রোগ দেখা দিয়েছে। জীবনের তাগিদেই লজ্জাশরম ভুলে ভ্যান চালানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। মাসে ১০ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই। তা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলছিল। একটু বেশি ভালো থাকার আশায় চার লাখ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ ও গ্রাম থেকে সুদে এনে একমাত্র ছেলে রাসেলকে দুই বছর আগে কাতারে পাঠাই। কিন্তু কপাল খারাপ। দুই বছরে ছেলে একটি টাকাও পাঠাতে পারেনি। ও খুব খারাপ অবস্থায় আছে সেখানে। ভাতার টাকা ঋণের কিস্তি আর সুদ দিতেই শেষ হয়ে যায়। ছেলের বউ, তার দুই সন্তান মিলে পাঁচজনের সংসার চালাতে এখন পথে নামতে হয়েছে।’ তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাবসেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছেন সেকান্দার আলী। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের তেঁতুলবাড়িয়ার পাথুরিয়া ক্যাম্পে ট্রেনিং নিয়ে প্রথম বগীবন্দর যুদ্ধে পাকিস্তানি গানবোট আক্রমণ করেন। সর্বশেষ উপজেলা সদরের (তৎকালীন থানা সদর) রায়েন্দা বাজারের পূর্ব মাথায় রাজাকারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এখানে তিন দিন যুদ্ধ চলে। তাঁদের আক্রমণে পরাস্ত হয়ে একপর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকাররা তাদের ক্যাম্প ছেড়ে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়। শেষ যুদ্ধে শহীদ হন চারজন বীরযোদ্ধা আলাউদ্দিন, টিপু সুলতান, আলতাফ হোসেন ও আসাদুজ্জামান।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুদ্ধকালীন ভারতের নৈহাটী ক্যাম্পের ইনচার্জ মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সেকান্দার আলী একজন সক্রিয় যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। শরণখোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এম এ খালেক খান বলেন, সেকান্দার আলী সুন্দরবন অঞ্চলে বহু সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা ভ্যান চালাচ্ছেন, শুনলে কষ্ট লাগে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা