kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

প্রসূতিদের থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রসূতিদের থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

বরগুনার বামনা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জাফরিন জাহানের বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতায় অনিয়ম ও উপকারভোগী গর্ভবতী মায়েদের ব্যাংক হিসাব খোলার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বামনা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জাফরিন জাহান তাঁর অফিসের কর্মচারীদের দিয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতার উপকারভোগী গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব খোলার নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া উপকারভোগীদের সশরীরে সোনালী ব্যাংক বামনা শাখায় উপস্থিত হয়ে নমুনা কার্ডে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা থাকলেও কৌশলে ব্যাংক থেকে নমুনা স্বাক্ষরের কার্ড এনে স্বাক্ষর নিয়েছেন তিনি। এতে এ কার্যক্রমে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ভাতা পাননি উপকারভোগীরা।

বামনা উপজেলা মহিলাবিষয়ক অফিস সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের সহায়তা দেওয়ার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর। বামনা উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে চলতি বছরে ২০৮ জন গর্ভবতী নারীকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে মাতৃত্বকালীন ভাতার আওতায় আনা হয়। তাদের প্রত্যেককে সোনালী ব্যাংক বামনা শাখায় মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে হিসাব খোলার নির্দেশনা রয়েছে। এ হিসাব নম্বরে তাদের মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলার অযোধ্যা গ্রামের প্রসূতি তানজিলা ইসলাম জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তাঁকে বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ব্যাংকের কার্ডে স্বাক্ষর দিতে বলেন অফিসের কয়েকজন কর্মচারী। সেখানে গিয়ে কার্ডে স্বাক্ষর দেওয়ার সময় ২০০ টাকা দাবি করে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সরেজমিনে বামনা উপজেলার অযোধ্যা ও গোলাঘাটা গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, দুই গ্রাম থেকে স্বর্ণা রানী, চম্পা আক্তার, দিপু রানী, ফাতিমা বেগম, তানিয়া বেগমসহ আরো অনেক গর্ভবতী নারীর কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব খোলার নামে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

বামনা সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক ওবায়দুল হক বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতার উপকারভোগী গ্রাহকসংখ্যা বেশি। আমাদের জনবল সংকটের কারণে তাঁদের হিসাব খোলার জন্য নমুনা স্বাক্ষরের কার্ড মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে দিয়েছি। তাঁরা উপকারভোগীদের কাছ থেকে তিনটি স্বাক্ষরের দুটি নেবেন। বাকি একটি স্বাক্ষর গ্রাহক ব্যাংকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমার সামনে দেবেন। তবে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই।’

অভিযুক্ত বামনা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জাফরিন জাহান বলেন, ‘আমি কোনো উপকারভোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিইনি।’

বরগুনা জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পেলে আমি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা