kalerkantho

চাঁদা না পেয়ে টেম্পোতে আগুন দিল পুলিশ!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে টেম্পোর চাকা কেটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্য। অসহায় বৃদ্ধ চালক টেম্পোতে আগুন জ্বলতে দেখে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা তাঁকে উদ্ধার করে। এটি ঘটেছে গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঈশ্বরদীর রূপপুর লালন শাহ সেতুর পূর্বপার গোলচত্বরে।

এদিকে বাড়িতে চেতনা ফিরে পেয়ে দিয়াড় বাঘইল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ক্ষতিগ্রস্ত চালক বিশু (৬৫) বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ টেম্পোতে নয়, আমার পরিবারের সবার পেটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কারণ এটা আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র বাহন।’

টেম্পোর যাত্রী মুঞ্জুয়ারা ও আনিসার রহমান জানান, তাঁরাসহ বেশ কয়েকজন সেই সময় ভেড়ামারা থেকে রূপপুর মোড়ে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে একদল হাইওয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছিল। পুলিশ দেখে চালক টেম্পোটি থামান। পুলিশ এই সময় লোহার শিক দিয়ে চাকাগুলো ছিদ্র করে দেয়। বৃদ্ধ চালক আকুতি জানালে পুলিশ তাঁকে গালাগাল করে চাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

চালক বিশু জানান, টেম্পোটি চালিয়ে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মা ও চার ছেলে মেয়ের লেখাপড়া এবং সংসার খরচ চালান। কয়েক দিন আগে এনজিও থেকে কিস্তি উঠিয়ে টেম্পোর তিনটি নতুন চাকা কিনে লাগিয়েছেন। এখনো কিস্তি পরিশোধ হয়নি।

পাকশী হাইওয়ে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) রাজিবুল করিম বলেন, ‘টেম্পোচালক বিশু মানসিকভাবে অসুস্থ।’

তবে ঈশ্বরদী টেম্পোচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুলিশকে মাসিক মাসোয়ারা দেওয়া হয়। তার পরও এইভাবে গরিবের পেটে লাথি মারা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানানো হবে।’

চালক সমিতির একাধিক সূত্র জানায়, টেম্পোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর গতকাল সকালে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবস্থা সামাল দিতে টেম্পো ও অটোরিকশা চালক সমিতির নেতাদের ফাঁড়িতে ডেকে সমঝোতা করতে বৈঠক করেন হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ।

মন্তব্য