kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিটিয়ে দুর্ঘটনা বলে প্রচার

মারাই গেল শিক্ষার্থী সৌরভ

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীর শিবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. শাকিব হাসান সৌরভ শেষ পর্যন্ত মারাই গেল। নিজের মোটরসাইকেল বন্ধুদের চালাতে না দেওয়ায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে ডান চোখ নষ্ট করে ফেলার পাশাপাশি পেটে ছুরি চালিয়ে তাকে জখম করা হয়। প্রায় এক বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সৌরভ। সে উপজেলার বাজনাব এলাকার মো. সবুজ সরকার ও পারভীন আক্তার দম্পতির বড় ছেলে।

জানা গেছে, অমানবিক নির্যাতনের পর প্রায় ছয় মাস তার জ্ঞান ফেরেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে জ্ঞান ফিরলে পরিবারকে সব জানায় সৌরভ। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে সাতজনের নামে মামলা করা হয়। পরদিন দুপুরে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মুরাদ জাহান চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নির্যাতনের বর্ণনা দেয় সৌরভ। তবে গত ৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আফতাব উদ্দিন শেখ নির্যাতনের কথা মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হয়।

নিহতের পরিবারের লোকজন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সৌরভের আবদারে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া হয়। এক বন্ধুসহ স্থানীয় কয়েক যুবক সেটি চালানোর আবদার করলে সৌরভ তা দেয়নি। তাতে তারা ক্ষিপ্ত হয়। গত বছর ঈদুল আজহার পরদিন কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ রবিন মিয়া, বিল্লাল হোসেন, বাবু মিয়া, শাকিল মিয়া, আরিফ হোসেন, মাহফুজ মিয়া ও বেলায়েত হোসেন মিলে সৌরভকে ইটাখোলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। পরে ভৈরবের কাছাকাছি মাহমুদাবাদ সেতুর কাছে নিয়ে তার একটি চোখ নষ্ট করে ফেলা হয়, পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এভাবে অবর্ণনীয় নির্যাতন শেষে তাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

পরে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি সৌরভকে উদ্ধার করে ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আইসিওতে সিট না পেয়ে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে এক মাস সাত দিন চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ছয় মাস চিকিৎসার পর সৌরভের জ্ঞান ফেরে। পরে পরিবারের লোকজনের কাছে প্রকৃত ঘটনা খুলে বললে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সৌরভের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। গত রবিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌরভ মারা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা